আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি রহমত প্রদানে বলেন, ‘আর যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষিত হয়। (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪) এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার জন্য রহমত বর্ষণে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণকে উপলক্ষ্য বানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘কুরআনুল কারিম মুমিনদের জন্য রহমতস্বরূপ; তবে এই রহমত থেকে পরিপূর্ণ ফায়েদা হাসিলে বান্দার জন্য কিছু শর্ত ও আদব রক্ষা করাও জরুরি। বিজ্ঞাপন – বান্দার প্রতি ওই আদবের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েই আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন কুরআন পড়া হয় তখন চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শোনো; যখনি মনোযোগের সঙ্গে কুরআন পাঠ শুনবে তখনই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষিত হবে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে কুরতুবিতে এসেছে, কুরআন তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনার আদেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর বাণী অনুযায়ী পরিপূর্ণ আমলের প্রতি সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।আর আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়।’ এ কথা থেকে বুঝা যায় যে, কুরআন রহমতস্বরূপ হওয়ার জন্য শর্ত হলো তার আদব রক্ষা করা। সুতরাং যারা এর পরিপন্থী কাজ করবে, তারা সে রহমত থেকে বঞ্চিত হবে এবং শাস্তির উপযোগী হবে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মনোযোগ দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত শুনবে, তাকে কয়েক গুণ বেশি ছাওয়াব প্রদান করা হবে, আর যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করবে, তা (কুরআন) তার জন্য কেয়ামতের দিন আলো হয়ে উদ্ভাসিত হবে।’ (মুসনাদে আহমদ) আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করার এবং কুরআন তিলাওয়াত মনোযোগের সঙ্গে শোনার তাওফিক দান করুন। কুরআন ও হাদিসে ঘোষিত রহমত, অধিক ছাওয়াব লাভ এবং কুরআনকে আলোকবর্তিকা হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।