কাঁকড়া একটি রপ্তানিযোগ্য হিমায়িত পণ্য, যা রপ্তানি করে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার সত্ত্বেও পৃথকভাবে কাঁকড়া চাষের কোনো ক্ষেত্র এখনও গড়ে উঠেনি খুলনার পাইকগাছায়।

আশির দশকের আগে এ অঞ্চলে শুধুমাত্র ধান চাষ হত। নব্বই দশক পর্যন্ত ধান ও মাছ ২টি চাষ এক সাথেই হত। কিন্তু কালের বিবর্তনে ধান চাষের বিলুপ্তি ঘটে চিংড়ি চাষের বিস্তার লাভ করেছে এখানে। এসব চিংড়ি ঘেরে যে কাঁকড়া উৎপাদন হয় তা বিক্রি করে চাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছে, তেমনি সরকার পাচ্ছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা।

কাঁকড়া চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, লোনাপানি কেন্দ্র, পাইকগাছার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা কাঁকড়ার বাচ্চা উৎপাদনের জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ লুৎফর রহমান জানান। প্রায় ৪ হাজার রেজিস্ট্রিকৃত চিংড়ি ঘের ছাড়াও অনেক চিংড়ি ঘেরে প্রাকৃতিকভাবে নদী থেকে আসা কাঁকড়া উৎপাদন করে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পাচ্ছে। যদিও কাঁকড়া উৎপাদনে চাষিদের বর্তমান পর্যন্ত কোনো উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে।

জানা যায়, উৎপাদিত কাঁকড়া বাজারজাতকরণের জন্যে পাইকগাছায় গড়ে উঠেছে প্রায় ২৫৫টি ডিপো। প্রতিটি ডিপোতে কমপক্ষে ৪-৫ জন কর্মচারী কাজ করে বেকারত্ব ঘোচাচ্ছে। আছে একটি নির্দিষ্ট কাঁকড়া সমিতি। সমিতির নিজস্ব অর্থে কেনা ৩টি পিকআপে প্রতিদিন এক-দেড়শ কাঁকড়ার ঝুড়ি বিদেশে পাঠানো হয়। প্রতি ঝুড়িতে ৭০-৮০ কেজি কাঁকড়া থাকে।

চলতি বছর সর্বোচ্চ ১৮শ টাকা ও সর্বনিম্ন ৫শ টাকা কেজি দরে বিকি-কিনি হচ্ছে বলে কাঁকড়া সমিতির সভাপতি শিবপদ দেবনাথ জানান।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ বলেন, পাইকগাছায় কাঁকড়া চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিদের এ চাষে আগ্রহী করতে এরইমধ্যে পৃথকভাবে অনেক মৎস্যচাষীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।