কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ॥ সারাদেশে ২৬২ জন নিখোঁজের তালিকা প্রকাশ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিযন (র‌্যাব)। তালিকায় থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪ জনের মধ্যে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের চর নেজামপুর গ্রামের যুবক মোস্তফা কামাল নিখোঁজ নয়, সে বর্তমানে বাড়িতেই অবস্থান করছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ঈদের আগে গরু কিনতে গিয়ে গত ৬ জুলাই সোনাই চন্ডী হাট থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়। নিখোঁজের কয়েক দিন পর সে নিজেই বাড়ি ফিরে এসেছে। ওসি জানান, ফিরে আসা মোস্তফা কামাল তাদের জানিয়েছে সে অপহরণের স্বীকার হয়েছিলো, তারা কাছে থাকা টাকা পয়সা খোঁয়া গিয়েছিলো, পরে জ্ঞান ফিরলে স্থানীয়দের সহায়তায় সে টেকনাফ থেকে বাড়ি ফিরে আসে। তবে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফাসির উদ্দীন জানান, ‘‘মোস্তফা কামালের কথা তার কাছে(পুলিশের কাছে) বিশ্বাস যোগ্য মনে হয়নি, তিনি বলেন, বর্তমানে সে আমাদের নজরদারিতেই আছে।’’

এদিকে র‌্যাবের প্রকাশিত নিখোঁজের তালিকায় থাকা মোস্তফা কামালের বাবা সাইদুর রহমানের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি জানান, তার ছেলে ঈদুল ফিতরের আগের দিন বুধবার গরু কিনতে সোনাই চন্ডী হাঁটে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলো, এর সাত দিন পর পরের বুধবারে টেকনাফের একজনের সহযোগিতায় তার ছেলেকে বাড়ি নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ফিরে এসে মোস্তফা কামাল বলেছে, ‘‘তাকে অপহরণ করা হয়েছিলো, মুক্তিপনের পনের জন্য তাকে বাড়িতে ফোন করতে বলেছিলো অপহরণকারীরা, এই সময় মোস্তফা কামাল বলে আমার বাবা অনেক গরিব আমাকে মেরে ফেললেও কোন টাকা দিতে পারবেন না । পরে টেকলাফের একটি রাস্তার পাশে তাকে ফেলে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা।’’ তিনি বলেন, আমার ছেলে কোন ধরনের মন্দ কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে না। তিনি বলেন তার ছেলে মোস্তফা কামাল ঢাকায় গার্মেন্সে কাজ করত , কিন্তু আয় ভালো না হওয়ায় তিনিই বছর খানেক আগে ছেলেকে ঢাকার গার্মেন্সের চাকরী ছাড়িয়ে গ্রামে নিয়ে আসেন। মোস্তফা কামালের ১ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে জানিয়ে সাইদুর রহমান বলেন বর্তমানে তার ছেলে কৃষি কাজের সাথে জড়িত আছে, আগামীতে একটা ব্যবসা বানিজ্যে নিয়োজিত করার জন্য ছেলেকে একটা দোকান করে দিবেন।

অন্যদিকে, তালিকায় থাকা শিবগঞ্জ উপজেলার, নজিবুল্লাহ আনসারী, বাদশা আলী ও মো. সুমনের বিষয়ে জানতে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাদশা আলীর বিষয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি জিডি হয়েছিলো অনেক আগে, সাধারণত কেউ মিসিং হলে সন্ধান চেয়ে জিবি করা হয়, আমরাও সারাদেশে একটা ম্যাসেজ পাঠায়। বাদশা আলীর বিষয়ে সর্বশেষ কোন তথ্য পুলিশের কাছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে তো তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি,কিন্তু গুলসান হামলার পর থেকে বর্তমানে বিষয় গুলোতে আরো খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সুমনের বিষয়েও খোঁজ খবর নেবেন বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, নজিবুল্লাহ আনসারীর বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছিলো, তার দাদার বাড়ি শিবগঞ্জে হলেও তার বেড়ে উঠা চট্টগ্রামে, নজিবুল্লাহ আনসারীর বাবা চট্টগ্রামেই থাকেন।