বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গুলশানের বাড়ির মালিকানা বিষয়ে করা রিভিউ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ রায়ের ফলে মওদুদ আহমদকে বাড়িটি ছাড়তেই হচ্ছে।

আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ রিভিউ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ৩১ মে শুনানি শেষ ৪ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।

আদালতে মওদুদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, কামরুল হক সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।

পরে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আদালত রায়ের জন্য ৪ জুন দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

গত বছর ২ আগস্ট মওদুদ আহমদের ভাই মনজুর আহমদের নামে ওই বাড়ির নামজারির নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজউকের আপিল গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ।

গত ৩০ আগস্ট এই মামলার ৮০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে পরে রিভিউ করেন মওদুদ।

রায় প্রকাশের পর মওদুদ আহমদ বলেছিলেন, ‘সাত বছর পর প্রতিহিংসাবশত সরকার আপিল করেছে। ১৯৮১ সাল থেকে আমরা এ বাড়িতে থাকি। এটা ক্রয় করা বাড়ি। সরকারের বাড়ি নয়।’

মওদুদ আহমদ আরো বলেন, ‘আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দুদক মামলা করেছিল। তাই সেটা আজকে বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।’

রাজউকের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, ‘মওদুদ আহমদের ভাইকে উচ্ছেদের জন্য সরকার মামলা করেনি। মওদুদ আহমদের ভাই নিজেই মামলা করেছেন। কাজেই এখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্য নেই। নিম্ন আদালতে তাঁরা হেরে গিয়ে উচ্চ আদালতে এসেছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেছিলেন, ‘হাইকোর্ট মওদুদ আহমদের ভাই মনজুর আহমদের নামে বাড়িটি নামজারি করতে রাজউককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের আদেশের পর আমি অস্ট্রিয়ায় যাই। সেখান থেকে বাড়ির মালিক অস্ট্রীয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের মৃত্যুর সনদ নিয়ে আসি। আমরা আপিল বিভাগে দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে ওই মওদুদ আহমদের ভাই যে তারিখে চুক্তিনামা করেছিলেন, তার আগে মারিয়া মারা গেছেন।’

এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট ওই বাড়ি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার জন্য হাইকোর্ট রায় দেন। রাজউক এ রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ আপিল বিভাগ রাজউককে আপিলের অনুমতি দেন। এরপর চলতি বছর এ মামলার শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাড়িটি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশীদ রাজধানীর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তাঁর ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

২০১৪ সালের ১৪ জুন এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে তাঁদের আবেদন গত বছরের ২৩ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ করেন মওদুদ আহমদ। এ আবেদনের শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার দুটি বিষয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ।

দুদকের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তাঁরা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়।

এর পর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ তাঁর ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুরের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন বলে মামলায় অভিযোগ করে দুদক।