খিলক্ষেতের দক্ষিণ নামাপাড়া, তালেরটেক ও আমতলা এলাকার একটি সড়কে এক মাস ধরে জমে আছে পয়োবর্জ্যমিশ্রিত পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় লোকজন বলেন, খিলক্ষেতের প্রধান সড়কে পয়োনালা সংস্কারের কাজ চলছে। কিন্তু এ সময় নালার পানি নিষ্কাশনের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এতে পানি বোয়ালিয়া খালে নামতে পারছে না। সড়কটি এক মাস ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে।

গতকাল বুধবার দেখা যায়, নালা থেকে উঠে আসা পানি জমে আছে সড়কে। জলমগ্ন সড়কে ধীরগতিতে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা। এদিকে হেঁটে চলাচলের জন্য রাস্তার এক পাশে ফেলা হয়েছে বালু-মাটি ভর্তি সিমেন্টের বস্তা। সেসব বস্তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে পথচারীরা।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী গাড়ির চালকেরা বলেন, খানাখন্দে ভরা সড়কে পানি জমে থাকায় গাড়ি চালানো বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, পানিতে ডুবে থাকায় গর্ত কোথায়, তা অনেক সময় তাঁরা আন্দাজ করতে পারেন না। এতে প্রায়ই হেলে যায় গাড়ি।

গতকাল দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা হেলেদুলে চলছে। গর্তে আটকে যাওয়া পণ্যবোঝাই ভ্যান গাড়িগুলোকে তুলতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে চালকদের। স্থানীয় অনেকে বলেন, দক্ষিণ নামাপাড়া ও তালেরটেক এলাকার পানি পূর্ব নামাপাড়া হয়ে বোয়ালিয়া খালে নেমে যেত। কিন্তু প্রধান সড়কে সংস্কারকাজ চলার কারণে নালার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর দক্ষিণ নামাপাড়া খিলক্ষেতের অন্যান্য এলাকার তুলনায় কিছুটা নিচু। এ কারণে সব এলাকার পানি সেখানে এসে জমছে।

খিলক্ষেত দক্ষিণ নামাপাড়া, তালেরটেক বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে খিলক্ষেতের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা এবং পয়োনালা সংস্কারের কাজ চলবে। এই দীর্ঘ সময় কি আমরা জলাবদ্ধ হয়ে থাকব?’ তিনি আরও বলেন, সংস্কারকাজের সময়ে পানি সরার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল। কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতার কারণে জনসাধারণের ভোগান্তি হচ্ছে। নালার পানি প্রবাহের জন্য বিকল্প পথ থাকলে এমন অবস্থা হতো না।

এলাকার লোকজন বলছেন, তালেরটেকের দক্ষিণে ৩০০ ফুট সড়কের পাশে খননরত ১০০ ফুট খাল দিয়ে খিলক্ষেতের পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হলে এই জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিন্নাত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নালার পানি ১০০ ফুট খাল দিয়ে নিষ্কাশনের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই খালে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা যাবে।’