গত এক বছরে যশোর জেলায় ২০৬ জন নারী, শিশু ও পুরুষ পাচারের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মাত্র দুটি মামলা হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ হয়েছেন ৩৪ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন আরও ৩১ জন।

যশোরসহ সারা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যশোরের মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর গতকাল শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে যশোরের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ সময়ে পুলিশি নির্যাতন, অপহরণ, পাচার, হত্যা, ধর্ষণ, নিখোঁজ, চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেড়েছে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যশোর জেলায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে ২ জন নিহত হয়েছেন। অন্যরা আহত হয়েছেন। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ সময়ের মধ্যে ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন নারী, ১৬ জন পুরুষ, ১৩ জন ছেলে শিশু ও ১ জন মেয়েশিশু। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩১ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। মুক্তিপণের দাবি, পূর্বশত্রুতা ও কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এ ছাড়া ২০৬ জন পাচারের শিকার হয়েছেন। ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে মাত্র দুটি।

বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, পাচারের শিকার হওয়া নারী-পুরুষেরা আইনের আওতায় কম আসেন। তাঁদের পরিবারের অনীহা যেমন রয়েছে, তেমনি পুলিশের অসহযোগিতাও আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দীন শিকদার বলেন, ‘রাইটস যশোর কোথা থেকে কী তথ্য পেয়েছে, তা আমরা জানি না। তবে পাচারের ঘটনা আমাদের দৃষ্টিতে এলেই আইনগত ব্যবস্থাসহ মামলা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কেউ পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়নি। এ ছাড়া অপহরণ, নিখোঁজসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনটি যেসব তথ্য দিয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। তারা ওই সব তথ্য আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক ১৭টি পত্রিকা থেকে এসব তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন (ডকুমেন্ট) তৈরি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিকসহ পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, রাইটস যশোর জাতীয়, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় মানব পাচার, হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, যৌনপীড়ন, পুলিশি নির্যাতন-হয়রানি, বিএসএফ কর্তৃক হত্যা, অপহরণ এবং নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের প্রতি নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতাসহ ২৪টি বিষয়ে তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে।