বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে। পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ টাকার নিচে নেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দর ছিল ৭০-৭৫ টাকা।

পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম আগের মতোই আছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। ফলে খুচরা বাজারে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম সমান হয়ে গেছে।

অবশ্য দাম কমলেও পেঁয়াজের বাজার এখনো চড়া। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত বছর এ সময়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ২০-৩০ টাকা।

প্রতিবছরের জানুয়ারিতে বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ে। পাশাপাশি ভারত থেকেও নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ আমদানি হয়। ফলে দাম বেশ কমে যায়। এ বছর দুই দেশেই সরবরাহ কম। বাংলাদেশে গত নভেম্বরে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে পেঁয়াজের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে পেঁয়াজের আবাদ নষ্ট হয়। এতে উৎপাদন কমে যায়।

ভারত গত নভেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়। এতে বাংলাদেশের বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

সেই তুলনায় বাজারে দর এখন বেশ কম। গত সপ্তাহে দেশি নতুন পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এখন তা কমে ৭০-৭৫ টাকায় নামায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা নারায়ণ চন্দ্র সাহা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকার নিচে নামবে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। এর কারণ ভারতে দাম বেশি এবং দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যাপকভাবে না হওয়া।’

ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার এক খবরে গতকাল বলা হয়, সে দেশে পেঁয়াজের দাম শিগগিরই কমবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে নতুন মৌসুম শুরু হবে। এদিকে ঢাকার বাজারে গত এক সপ্তাহে কোনো কোনো পণ্যের দাম কমবেশি বেড়েছে।