বাংলাদেশ বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান॥ প্রণব মুখার্জী

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রণব মুখার্জী বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সামনে বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছেন। সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রণব মুখার্জীর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব আলোচনা হয়। এছাড়া সোমবার ধানম-িতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রণব মুখার্জী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যও রাখেন তিনি। পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা প্রণব মুখার্জী সোমবার গণভবনে যান। তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জীও ছিলেন তার সঙ্গে। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিক ববি এবং প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় শেখ হেলালউদ্দিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার মেয়েকে গণভবনে ঘরোয়া মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রণব মুখার্জী আলোচনায় তার অবসর জীবনের কথা বলেন। এখন তিনি পড়াশোনার জন্য প্রচুর সময় পাচ্ছেন, সেটাও বলেন। ২০১২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রণবের প্রথম বিদেশ সফর ছিল এই বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তাকে সম্মাননাও দেয়া হয়েছিল। সেই সফরের কথাও এবার স্মরণ করেন এক সময়ের এই কংগ্রেস নেতা। ইহসানুল করিম জানান, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বর্ণনা করেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন তার সামনে। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে চলে আসা মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার কথাও প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় অন্যদের মধ্যে মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রবিবার পাঁচদিনের ব্যক্তিগত সফরে ঢাকা পৌঁছান তিনি। সোমবার সকালে ধানম-িতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন প্রণব। বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার শোক বইয়ে প্রণব লিখেন, ধানম-ির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে আসার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, যিনি স্বাধীনতার সংগ্রামে বাংলাদেশের মানুষকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে এই বাড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। এখান থেকেই মার্চে একটি নতুন জাতি সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। আমি সর্বকালের এই সাহসী নেতার প্রতি সালাম জানাই, শ্রদ্ধা জানাই সব শহীদদের প্রতি। সোমবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেয়া নৈশ্যভোজে অংশ নেন প্রণব।
আজ মঙ্গলবার তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তাকে দেয়া হবে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শেষে মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্মভূমি রাউজানে যাবেন প্রণব। রাতে চট্টগ্রামেই থাকবেন। বুধবার ঢাকা ফিরে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে। বৃহস্পতিবার সকালে তার ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রণব মুখার্জী এর আগে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ ছিল বাংলাদেশে ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই বাঙালী রাজনীতিক। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা দেয়া হয়। তবে এবার প্রণব মুখার্জী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঢাকা সফর না করলেও, তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হচ্ছে। গত বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লী সফরকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তারা সে সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সর্বান্তকরণে সমর্থন দানের জন্য প্রণব মুখার্জীকে ধন্যবাদ জানান। তারা দু’জনেই ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর শেখ হাসিনার ভারতে নির্বাসিত জীবনে তাদের দুই পরিবারের স্মৃতিচারণ করেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া এবং দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ভিত্তিদানের জন্য অব্যাহত উদ্যোগ গ্রহণে শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে ভারতের সমর্থন দানের বিষয়ে ১৯৭১ সালের ১৫ জুন ভারতের রাজ্যসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন প্রণব মুখার্জী। ভারতের ত্রয়োদশ এবং প্রথম বাঙালী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী কংগ্রেস দলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভারতের অর্থ, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, রবিবার পাঁচদিনের সফরে ঢাকা আসেন প্রণব মুখার্জী। সে সময় বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী

 

 

2018-01-16T09:57:04+00:00January 16th, 2018|বাংলাদেশ|
Advertisment ad adsense adlogger