সবজির সরবরাহ বাড়ায় কমেছে দামও

শীতের তীব্রতা কমে আসায় রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। কমেছে দামও। দেশীয় মাছের দাম কমেছে, সরবরাহ বেড়েছে ইলিশ মাছের। এ কারণে স্বস্তি মাছের বাজারেও। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। জাত ও মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকায়। ভোক্তাদের কাছে এই দামও অনেক বেশি। তাই পেঁয়াজের বাজারে অস্বস্তি রয়েছে আগের মতোই। এছাড়া চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। রসুনের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০-১১০ টাকায়। আদার দামে কমে ৬০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর কাপ্তান বাজার, কাওরান বাজার, পলাশী বাজার এবং নিউমার্কেট কাঁচা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে, বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যাবধানে সব ধরনের সবজিই কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি আকারভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, শসা প্রতিকেজি ৪০, পেপে ২৫, শিম ৪০, বেগুন (কালো) ৪০, বেগুন (সাদা) ৫০, চিচিঙ্গা ৪০, ঝিঙ্গা ৬০, করলা ৭০ এবং মটরশুটি ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পুরান ঢাকার কাপ্তান বাজারের সবজি বিক্রেতা খলিল জনকণ্ঠকে জানালেন, পাইকারিতে সরবরাহ ও দাম কমায় খুচরা পর্যায়েও কমে বিক্রি হচ্ছে। এখন থেকে সবজির সরবরাহ বাড়বে। শীত কমে আসায় উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়েছে। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই সবজির দাম কিছুটা করে কমতে থাকবে। তবে ওই বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মনির জানালেন, দাম আরও কিছুদিন চড়া থাকবে। চাহিদার তুলনায় দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ সেভাবে বাড়ছে না। এ কারণে এখনও পেঁয়াজের দাম বেশি। তবে আগামী পনের দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকায় নেমে আসবে বলে মনে করেন এই খুচরা বিক্রেতা। এদিকে, নদী, নালা, খালবিল, পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ের পানি কমতে থাকায় বাজারে দেশীয় জাতের মাছের সরবরাহ বেড়েছে। অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে শৌল ও বোয়াল মাছ। এছাড়া পুটি, টেংরা, শিং, কৈ, চিংড়ি, টাকি, পাবদা, গাং চেলা, রয়না, তেলাপিয়া, মুয়াসহ রুই, কাতলা ও মৃগেলের মতো বড় দেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে দাম কম হওয়ার কারণে ক্রেতারা এসব মাছ কিনে নিচ্ছেন বেশি করে। নিউমার্কেটে শৌল মাছ কিনছিলেন জুবায়ের হোসেন। তিনি বলেন, শীতকালেই বড় শৌল পাওয়া যায়। এ কারণে পছন্দ মতো শৌল মাছ কেনা হয়েছে। ওই বাজারের মাছ বিক্রেতা রায়হান বলেন, সাইজ ও আকারভেদে প্রতিটি শৌল মাছ ৪০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাইজ ভেদে প্রতিকেজি বোয়াল ৩০০-৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাছের দাম কমলেও গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩৫ টাকায়। এছাড়া দেশীয় জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে জোরা ৭৫০-৮০০ টাকায়। জানা গেছে, সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে চাল ও আটার দাম। প্রকিকেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৬ টাকায়। এছাড়া মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৮ টাকায়। সরু ও চিকন জাতের মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৫ টাকায়। চাল বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে দাম বেশি হওয়ার কারণে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম আর কমছে না। তবে পাইকারিতে কমে আসলে খুচরা পর্যায়েও দাম কমবে। যদিও সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে মোটা চাল ৪০ টাকার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। কৃষকদের বিষয়টি মাথায় রাখলে মোটা চালের দাম এখন ঠিকই আছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, মোটা চাল এখনও ৪৪-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি মোটা চালে এখনও ৪-৬ টাকায় বেশি নেয়া হচ্ছে। এ কারণে দাম আরও কমানো উচিত। প্রসঙ্গগত, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে দেশে এখন সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে চাল ও গম আমদানি করা হচ্ছে। আমদানির পরিমাণ ৬২ লাখ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে গেছে। সামনে আরও চাল-গম আমদানি হবে। এ কারণে চালের দাম বাড়ার আর কোন আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

2018-02-03T08:04:33+00:00February 3rd, 2018|বাংলাদেশ|
Advertisment ad adsense adlogger