শহরের জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। গত দুই যুগে অন্তত দুই শতাধিক পুকুর, দিঘি, খানাখন্দ ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ইমারত। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে এখানকার জলবায়ুতেও। যদিও আইন মতে একটি জলাশয় যখন হয় তখন সেটা পাবলিক প্রপার্টি হয়ে যায়, সেটা বন্ধ করে ইমারত তৈরি করা আইনত অপরাধ। ২ বছর আগেও সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ছোট-বড় ৩৫টি পুকুর ছিল, এখন সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে ২০টির মতো, যা আগামী ২ বছরে হয়তো নিশ্চিহ্ন হতে পারে। কয়েক বছর আগেও শহরের সর্ববৃহৎ শপিংমল সিটি প্লাজা জলাধার হিসেবেই ব্যবহৃত হত। কিন্তু তা আজ বহুতল ভবনে পরিণত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে এভাবেই শহরের পুকুর, দিঘিসহ অন্যান্য জলাধারগুলো ভরাট করে একের পর এক বিপণি বিতান, আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে, সংস্কারের অভাবে বাকি জলাধারগুলোও মৃতপ্রায় বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। জানা গেছে, শহরের মুজিব সড়ক এলাকার অধিকাংশ অভিজাত বস্ত্র বিপণিগুলো গড়ে উঠেছে জলাশয় ভরাট করে। এম.এস.টি.পির দক্ষিণ গেটের সামনের পুকুর ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে ইমারত, পোস্ট অফিসের সামনের পুকুর, আইটি পার্কের বিপরীতে, চিড়া মাগুর পট্টি ও আখ পট্টি পুকুরটিও ভরাট করে তৈরি হয়েছে বড় বড় ইমারত। এদিকে শহরের মিশনপাড়া, কাজিপাড়া, বেজপাড়া, ষষ্ঠীতলাসহ প্রায় প্রত্যেক এলাকার পুকুরগুলো ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে সুউচ্চ অট্টালিকা। এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দর সড়কের, বাঁচতে শেখার বিপরীতে একটি বড় পুকুর ভরাট করে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। এমনিভাবে একের পর এক ভরাট হবে প্রায় সবকটি জলাশয়। জলাধার কমে যাওয়ায় এখনই দেখা দিয়েছে পানি সংকট। শুষ্ক মৌসুমে এ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করছে পরিবেশবিদরা। একদিকে ভূ-উপরস্থ পানির অব্যবস্থপনা অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ। এম এম কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোলজার রহমান বলেন, শহরাঞ্চলে যখন একটি পুকুর হয় সেটি জনগণের সম্পদে পরিণত হয়, ইচ্ছা করলেই ওই জমির মালিক পুকুরটি বন্ধ করে ইমারত তৈরি করতে পারে না। তিনি বলেন, একটি জলাশয় মাইক্রো ক্লাইমেট রক্ষা করে, বায়ু চলাচল স্বাভাবিক রাখে, পুকুর সংশোধক প্রক্রিয়ায় পানিতে বসবাসরত অনুজীব ও ব্যাকটেরিয়াকে খাদ্যের আধারে রূপ দেয়, যেটা প্রাণিজ সম্পদ রক্ষা করে। এছাড়া তিনি বলেন, ভূ-উপরিভাগের জলাশয় না থাকলে পানির লেয়ার কমে যাবে। যার কারণে গভীর থেকে পানি উত্তোলন করতে হবে, এ গভীর স্তরে আছে প্রচুর পরিমাণে সালফার এবং আর্সেনিক, যা মানব শরীরে প্রচ- ক্ষতি করে। তিনি আরও বলেন, একটি পুকুর তার আশপাশের উদ্ভিদ জন্মাতে সাহায্য করে, পুকুর না থাকলে মরুকরণ হবে যার কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হবে।