সব দল নির্বাচনে আসায় ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর

বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় তাদের স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করাই সরকারের লক্ষ্য। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই বিজয়ী হবে।

গতকাল রবিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় সভাপতি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে পাঁচ বছর আগে জাতীয় নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের ডাক দিয়ে ব্যর্থ হওয়া বিএনপি এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি বিএনপি পাঁচ বছর ধরে করে এলেও তাতে ‘গা’ করেনি আওয়ামী লীগ। শেষ সময়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে দলটির নেতারা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেও দৃশ্যত তাঁদের কোনো দাবিই পূরণ হয়নি। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিন দিন ধরে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে আওয়ামী লীগ। আর গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানায় ঐক্যফ্রন্ট, যেখানে বিএনপি নেতারাও ছিলেন।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই আওয়ামী লীগের ওই সভায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলগুলোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে নির্বাচন করব। জনগণ যাকে চাইবে, তাকে ভোট দেবে, সেটাই আমরা করব। সবাই যেহেতু নির্বাচন করবে সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানাচ্ছি।’

গত ১ থেকে ৭ নভেম্বর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনটা কিভাবে করব এবং নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সে আলোচনা হয়েছে। অনেকে অনেক দাবিদাওয়া করেছিল। বেশ কিছু আমরা মেনে নিই। তা ছাড়া নির্বাচনটা যেন সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সবাই যেন নির্বাচন করার সুযোগ পায় সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখব, সে কথা আমরা দিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সব সময় এটাই চাই যে আমরা যে উন্নয়নটা করেছি তার ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই গতিটা যেন কোনোমতেই থেমে না যায়। বাংলাদেশকে আমরা যেভাবে গড়ে তুলতে চাই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে, সেভাবে যেন গড়ে তুলতে পারি, সেদিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা আলাপ-আলোচনা করি।’

মনোনয়ন ফরম আগ্রহী সবাইকে দেওয়া হলেও প্রার্থী নির্ধারণে ‘উপযুক্ত ব্যক্তিকে’ বাছাইয়ের চেষ্টা থাকবে বলে জানান আওয়ামী লীগপ্রধান। সব সময় ৩০০ আসনেই নিজেদের প্রার্থী ঠিক করা হলেও পরে জোটের প্রার্থীদের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

মনোনয়ন ফরম বিক্রির মধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা বসেছে। তবে এই সভায় প্রার্থীর মনোনয়ন নির্ধারিত হবে না বলে সকালেই এক অনুষ্ঠানে জানান শেখ হাসিনা। দলীয় প্রার্থী ঠিক করতে পরে আরো সভা হবে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংদসীয় বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও রশিদুল আলম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার জন্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ড. আলাউদ্দীন সভায় উপস্থিত হতে পারেননি। এ ছাড়া কাজী জাফর উল্যাহ বিদেশে রয়েছেন।

সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনই লক্ষ্য সরকারের

এর আগে গতকাল সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করা আমাদের লক্ষ্য। আমি আশা করি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই নির্বাচনে অংশ নেবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটাই বাস্তবতা যে নির্বাচনে অংশ না নিলে একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি হারায়। আমরা আশা করি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও নির্বাচনে অংশ নেবে এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্র অধিকতর শক্তিশালী ও দেশের আরো উন্নয়ন হবে।’

যুবলীগ সভাপতি আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ বক্তব্য দেন। এর আগে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতারা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

নির্বাচন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার অনেক মেগা প্রকল্প নিয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অঙ্গীকার করেছে। যদি আমরা ক্ষমতায় আসতে না পারি তাহলে কেউ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা চালু করেছি। আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ থেকে ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যদি আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্যের হার ৪-৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। তখন আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত বলতে পারব।’

2018-11-12T09:54:24+00:00November 12th, 2018|বাংলাদেশ|
Advertisment ad adsense adlogger