দেশসেরা শিল্প গ্রুপ ‘বিআরবি’ নিয়ে একটি মহলের মিথ্যাচার

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের সেরা ও বিশ্বের অন্যতম বৈদ্যুতিক তার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে স্যোসাল মিডিয়ায় অপ্রচার চালাচ্ছে একটি স্বার্থনেসী মহল। অভিযোগ উঠেছে সুবিধা না পেয়ে সস্পূর্ন কাল্পানিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে মহলটি। বিআরবিকে নিয়ে মিথ্যাচারের আগে তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে হবে আগে।
আগে জেনে নেওয়া যাক বিআরবি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত।
কুষ্টিয়ার বিসিকি শিল্পনগরীতে প্রতিষ্ঠিত স্বনামধণ্য এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি গুনগত আর মানসম্মত পণ্য তৈরী ও বাজারজাতকরনের মাধ্যমে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
গুনগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিআরবি কোম্পানী দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করেছে। এই কোম্পানীর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি., এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ লি. ও বিআরবি পলিমার লি. এর মত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাইরে সিকিউরিটিজ, এয়ারসার্ভিস, স্বাস্থ্যসেবা, কিয়াম ছিরাতুন নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, শিক্ষা ও মানবসেবাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিআরবি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। আর এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান দেশ বরেণ্য শিল্পপতি বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ মজিবর রহমান। রপ্তানীখাতে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি বেশ কয়েকবার সিআইপি নির্বাচিত হন। শিল্পপদক ও জাতীয় রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কয়েকবার জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করেন। সব মিলিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের গৌরব বয়ে আনার অন্যতম দাবিদার বিআরবি গ্রুপের স্বপ্নদ্রষ্টা মো. মজিবর রহমান নিজকে উৎসর্গ করেছেন কাজের পেছনে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা রয়েছে তার। কঠিন অধ্যাবসায় ও সততার সাথে কোন চেষ্টা করলে তার ফলাফল অবশ্যই ভাল হয়, এর বাস্তব প্রমান তিনি।
১৯৭৮ সালের ২৩ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান আলহাজ্ব মোঃ মজিবর রহমানের হাত ধরে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্টিজ লিমিটেড প্রতিষ্টা লাভ করে। প্রতিষ্ঠা থেকে পণ্যের গুনগত মান বজায় রাখার কারণে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ^জুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্বের আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও পণ্যের গুনগত মান নিয়ন্ত্রণের ফলে বিআরবি কেবলস্ ইন্ডাস্ট্রিজের বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারেও রফতানি হচ্ছে।
এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কুষ্টিয়াতে বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যানের সহধর্মিনীর নামে ১৬তলা ভবনবিশিষ্ট সেলিমা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখানে দরিদ্র থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণির রোগিদের স্বাস্থ্যসেবা থাকবে। দেশের অত্যাধুনিক ও সর্বশ্রেষ্ঠ হাসপাতাল হবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ঢাকায় বিআরবি হসপিটালস লি. নামে বিআরবি’র আরেকটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল চালু হয়েছে। বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বিআরবি’র ব্যবস্থাপন্ াপরিচালক মো. পারভেজ রহমান, কনিষ্ঠপুত্র এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুর রহমান ও একমাত্র জামাতা কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজবার রহমান তার সাথে হাতে হাত ধরে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
পণ্য উৎপাদন ও গুনগত মান রক্ষার জন্য আইএসও সনদ লাভসহ বিশ্বের প্রায় ২শ’টি দেশের তিন হাজার কেবলস্ কোম্পানীর মধ্যে নির্বাচিত ৫০টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানী মধ্য থেকে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং-এ কুষ্টিয়ার বিআরবি কেবলস্ ইন্ডাস্ট্রিজ ৩৩তম স্থান ও দেশের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জলসহ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ বিআরবি কেবলস্ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারনে কুষ্টিয়ার মানুষ গর্বিত।
বিআরবি গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর্ণধার দেশবরেন্য শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ মজিবর রহমান যখন এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময় একটি স্বার্থনেসী মহল স্যোসাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্বনামধন্য এই শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থে ব্যর্থ হয়ে জৈনক ব্যক্তি সর্বপ্রথম ফেসবুকে ২ লাইনের একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর নাম সর্বস্ব কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় ভূয়া মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, একটি সংবাদ প্রকাশের যে সকল শর্ত থাকে তা প্রকাশিত ওই সংবাদে নেই। ভুক্তভোগী কারা তারা কি অভিযোগ করছে তা সুনির্দিষ্ট নয়।
মজার বিষয় হলো জৈনক ব্যক্তি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর পূনরায় আরেকটি স্ট্যাটাস দেন এবং সেখানে বলেন তিনি বিআরবি ইট ভাটা নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্য করে এই স্ট্যাটাস প্রদান করেন। আদৌ কুষ্টিয়া জেলায় বিআরবি ইটভাটা নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই বলে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সচেতন মহল মনে করে, সুবিধা না পেয়ে, হুজুকে পড়ে বা ঈর্ষানি¦ত হয়ে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার করছে একটি পক্ষ। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় উক্ত খবরটি ব্যক্তি স¦ার্থ চরিতার্থে সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসুত। যে খবরে দেশের প্রথম সারির একটি প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস আজ মহামারীতে লকডাউন এবং অচলাবস্থার কারণে বহুমাত্রিক সংকটে বাংলাদেশের শিল্প-বানিজ্য ও অর্থনীতি। বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্প কলকারখানা আজ ধ্বংসের মুখে। লকডাউনের কারনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ তাই কারখানায় উৎপাদন নেই। বৈশ্বিক বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে অচলাবস্থা চলছে। অতীব সত্য, বিগত চার দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধ্বংসের ধাক্কা লেগেছে করোনা মহামারীর কারনে।

আর এসব টানা-পোড়েনের মধ্যেও অনন্য নজীর স্থাপন করেছে কুষ্টিয়ার বিআরবি গ্রুপ। জানা গেছে, বি আর বি গ্রুপ তাদের অঙ্গ সহযোগী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাকে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি প্রদান করেছে। তাদের কর্মকান্ড বন্ধ রেখেও সকল পর্যায়ের শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শতভাগ বেতন পরিশোধ করেছে। লকডাউন বা সাধারণ ছুটির মধ্যেও প্রায় তিন মাসে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। তাছাড়াও পরিশোধ করেছে শতভাগ ঈদ বোনাসও। শুধু তাই নয়- সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে নিরাপত্তার স¦ার্থে কিছু নিরাপত্তা কর্মী, জরুরী দাপ্তরিক কাজে কিছু কর্মচারী ও কর্মকর্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য কিছু শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ডিউটি করেন। পরিবর্তে নিয়মিত বেতন ভাতাদি পরিশোধ ছাড়াও অতিরিক্ত কাজের জন্য তাদেরকে মাসিক বেতনের সমপরিমান হারে অতিরিক্ত কাজের মজুরী পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি ।
এতে করে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট বেতন-ভাতাদি বাবদ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা এবং ঈদ বোনাস পরিশোধের পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত প্রায় কোটি টাকা প্রদান করেছে অতিরিক্ত কাজের মজুরী হিসাবে। প্রণোদনার বিষয়ে বলতে হয়, যদি প্রতিষ্ঠানটি সরকার কর্তৃক প্রণোদনা পেত তাহলে অবশ্যই তা প্রদান করতো। উল্লেখ্য, এই করোনার কারণে দুঃখী ও আর্তমানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠানটি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ তহবিলেও সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
বলাবাহুল্য, বিআরবি গ্রুপ সরকার ঘোষিত যে সাধারণ ছুটি (উক্ত সাধারণ ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসবছুটি সহ বিভিন্ন ছুটি পড়েছে) তাদের শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাকে প্রদান করেছেন তা কিন্তু কোন দায়বদ্ধতা বা বাধ্যবাধকতা থেকে নয় – কেননা শিল্প কারখানার জন্য এ ছুটি প্রযোজ্য ছিল না। কেননা কারখানা আইন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই লোকাল প্রশাসন থেকেও বি আর বি কর্তৃপক্ষকে কারখানা খোলার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু বি আর বি কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি স¦ীকার করেও মানবতার দায়বদ্ধতা থেকে উক্ত সাধারণ ছুটি প্রদান করেছেন।
একটা উদাহরণ আছে যে, চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী, তাই এত কিছুর পরও কিছু মানুষ বুঝে-শুনে ও অন্যের প্ররোচনায় পড়ে কুৎসা রটনা করছেন যে, ‘করোনা’র কারণে বিআরবি’র চারশত জনের চাকুরী যাচ্ছে’। আমরা কুষ্টিয়াবাসী সকলেই জানি বা খুব কাছ থেকে দেখছি – বিআরবি গ্র“প একটি বৃহৎ শিল্প সাম্রাজ্য। আজ বিসিক শিল্প নগরী সর্বদা মানুষের কোলাহলে মুখরিত তা শুধু বি আর বি গ্র“পের শিল্প প্রতিষ্ঠান সমুহের কারণেই। এখানে হাজার হাজার মানুষ চাকুরী করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাহিরের জেলা থেকে কেহ কুষ্টিয়ায় এসে যদি বি আর বি না দেখে যায় তার যেন কুষ্টিয়া ভ্রমনই ব্যর্থ। তাই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষা সফরের প্রধান আকর্ষণ হিসাবে বিআরবি কে বেছে নেয়। এটা কুষ্টিয়াবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।
একটি শিল্প সাম্রাজ্য চালাতে গেলে যেমন থাকবে শিল্পের উন্নয়নে শ্রমিকদের প্রতি ভালবাসার ছোঁয়া, তেমনি প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে থাকবে আইনের শাসন। তবেই না কোন প্রতিষ্ঠান উঠতে পারে উন্নতির চরম শিখরে। তাই কেউ অনিয়ম, চুরি, অসদাচরণ করলে প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে এটাই স্বাভাবিক।
বিআরবি গ্রুপ মনে করে সম্পূর্ন শক্রতামূলক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ জাতীয় মিথ্যা তথ্য ú্রচার করায় বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এর দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন সহ সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সামাজিক মহলে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় যা কোম্পানীর ব্যবসায়িক অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের সামিল। তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সম্মানিত পাঠককুল এবারে নিশ্চয় স্পষ্ট হয়েছে যে, বি আর বি তে করোনার প্রভাবে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই হয়েছে এমন বক্তব্য নিছক মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, ২৮ জন শ্রমিককে তাদের কর্তব্যে অবহেলা, গাফিলতি, ইচ্ছেমাফিক চলা, অননুমোদিত ভাবে অনুপস্থিত থাকা ইত্যাদি কারণে চাকুরী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে -তা করোনা প্রাদুর্ভারে অনেক আগে। আর এর পিছনে অবশ্যই যৌক্তিক কারণে রয়েছে। একটি উৎপাদনমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠানে যদি শ্রমিকদের কো¤পানীর কাজের প্রতি দরদ না থাকে, মনোযোগী না হয়, ইচ্ছেকৃতভাবে উৎপাদন ব্যাহত করে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নসাধন করা খুবই কষ্টকর। আর এ সমস্ত শ্রমিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং অন্যদেরকে প্রভাবিত করে। শোনা যায় উক্ত কর্মীগনকে ওভার টাইম করার জন্য কো¤পানী বলে। হ্যাঁ এরকম হয়েই থাকে – আর বি আর বি কর্তৃপক্ষ সঠিক নিয়মেই ওভার টাইমের পয়সাও পরিশোধ করে থাকে। এরপরও যদি কেহ অসদাচরণ করে, কাজে গাফিলতি করে তাহলে তো প্রতিষ্ঠানের স¦ার্থে অনেক সময় কিছু সিদ্ধান্ত নিতেই হয় – যা অপ্রিয় সত্য। জানা গেছে, তারপরও তাদেরকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া যায় কি না সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা প্রতিষ্ঠানের ছিল এবং তাদের সাথে কথা বলাও হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বিষয়টি পিছিয়ে যায়। ইত্যবসরে উক্ত শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশ শ্রমিকই তাদের পুনঃনিয়োগের বিষয়টি ভুলে গিয়ে কিছু অসাধু চক্রের মাধ্যমে কো¤পানী স¤পর্কে নানা কুৎসা রটনা করে কো¤পানীর ভাব-মুর্তি ক্ষুন্ন করেছে।
আর চারশত জনের চাকুরী যাচ্ছে বা যাবে, তারা বেতন পায় নাই এরকম কথা সত্যিই হাস্যকর। গ্র“পের প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা বেতন পেয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তাদের লোকজন রয়েছে, কেউ যদি না পেয়ে থাকে, কোন ভুল হয়ে থাকে তাই সেটি এত ফলাও করে তুলে ধরার কিছু নেই। বি আর বি কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটির নোটিশ সমুহে এই মর্মে ঘোষনা দেয় যে, শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাগণ যেন ছুটিকালীন সময়ে ঘরেই থাকেন, এই সময়ে বাইরের কাউকে যেন নিজ বাড়ীতে প্রবেশের অনুমতি না দেন, সরকারি স¦াস্থ্য বিধি মেনে চলেন ইত্যাদি – আর এটা দোষনীয় কিছু নয় বরং সচেতনতা। আর সরকারও এরকমই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। অথচ তারপরও কিছু কর্মচারী কর্মকর্তা নিয়ম না মেনে স্থান ত্যাগ করেছেন সেকারণে তাদের হয়তো ঐ সময়ের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। আর এটা প্রশাসনিক ভীত ঠিক রাখতেই করতে হয়েছে। কিন্তু এটিকেই অনেকে সমালোচনায় নিয়েছেন যা অনভিপ্রেত।
যখন করোনা আর লকডাউনে বহুমাত্রিক সংকটে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য, যখন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীখাতে, বিদেশের মাটিতে একের পর এক ছাঁটাই হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিক, সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তা তখন দেশের খ্যাতনামা একটি প্রতিষ্ঠান বি আর বি গ্র“প যারা কিনা দেশের সংকটপূর্ণ মুহুর্তেও শতভাগ বেতন-বোনাস পরিশোধ করে চলেছেন, অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকল শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়ে নতুন উদ্যোমে কাজে মনোনিবেশ করেছেন, তখন এরকম একটি মুখরোচক গুজব রটনা কতটুকু যৌক্তিক তা পাঠক মহলের আর হয়তো বুঝতে বাকী থাকে না।
তবে সচেতন কুষ্টিয়াবাসী মনে করে এই ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। কারন একটি প্রতিষ্ঠানকে তিলে তিলে যিনি গড়ে তুলেন তিনিই জানেন কি পরিমান ত্যাগ স্বীকার করলে একটি প্রতিষ্ঠানকে দাড় করানো সম্ভব হয়। যে প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের জেলার মানুষের কাছে আর্শিবাদ হয়েছে সেখানে গুটিকয়েক ধান্দাবাজ সুবিধা না পেয়ে যা ইচ্ছ তাই প্রচার করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই অপপ্রচার যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ ভবিষতে যাতে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড না করার সাহস সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

2020-06-13T22:56:58+00:00June 13th, 2020|বাংলাদেশ|
Advertisment ad adsense adlogger