আন্তর্জাতিক বাজারে আবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে প্রায় সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। গত সোমবার ওয়েস্ট টেক্সাস বা ইউএস ক্রুড শ্রেণির জ্বালানি তেলের দাম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৩৭ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমে গেছে। একই সঙ্গে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড শ্রেণির তেলের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪০ দশমিক ৭৩ ডলারে নেমেছে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের পরে এটিই হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সর্বনিম্ন দাম। এর আগে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পণ্যটির দাম এই পর্যায়ে ছিল।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তেল রপ্তানিকারক বড় দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের (অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্ট কান্ট্রিজ) এক সভায় তেল উৎপাদন কমানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কমেছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উত্তোলনের পরিমাণ বেশি থাকাটাই তেলের দাম কমার প্রধান কারণ। ওপেকের সদস্যদেশগুলো তেলের বৈশ্বিক চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ মিটিয়ে থাকে।
তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ওপেকের সদস্যদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ নতুন নতুন দেশের দিক থেকে প্রতিযোগিতার চাপ বাড়ছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের তেলক্ষেত্রগুলো বন্ধ রাখা হলেও এখন দেশটির কিছু কিছু কূপ খোলা হচ্ছে। এতে তাদের তেলের সরবরাহ বেড়েছে।
সান গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা সঞ্জীব শাহ বলেন, ‘ওপেক উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরায় পড়ে গেছে।’
বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওপেক ঐতিহ্যগতভাবেই উৎপাদনের পরিমাণও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা। কিন্তু গত শুক্রবার সংস্থাটি ঘোষণা দেয় যে তারা প্রতিদিন ৩ কোটি ১৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করবে। এর আগে তাদের দৈনিক তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ব্যারেল।
গত ২০১৪ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ওপেকের সদস্যরা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের তেল সরবরাহের হিস্যা বা পরিমাণ ধরে রাখতে বেশি পরিমাণে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডভিত্তিক জ্বালানিসংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যাপরক রিস্ক ম্যানেজমেন্টের ক্রিস জারভিস বলেন, ‘আমরা এখন জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে রশি টানাটানির পরিস্থিতিতে আছি। ঠিক এই সময়ে অন্য প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তেলের দামে নেতিবাচক প্রভাব ত্বরান্বিত হয়েছে। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম কমে ৩২ ডলারেও নেমে যেতে পারে।
কাতারের দোহায় সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের এক সম্মেলনে জানান, আগামী বছরের গোড়ার দিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।
কিন্তু চাহিদার তুলনায় এখনো প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বেশি উৎপাদন হওয়ায় দাম কমা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেটিই যেন প্রতিফলিত হয়েছে ফরাসি তেল কোম্পানি টোটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্যাট্রিক পৌয়ানের কথায়। তাঁর মতে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ বেশি থাকায় ২০১৬ সালে তেলের দাম ঘুরে দাঁড়াবে এমন লক্ষণ আপাতত নেই।
সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।