আফরিন সুলতানা,পাবনা চীফ অব ব্যুরো ॥ মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীকে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার দুবলিয়া গ্রামে। পুলিশ জানায়, আতাইকুলা থানার মৃত সামসুর রহমানের মেয়ে সায়েমা আক্তার ডলি (৩০) এর সাথে ২০০১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একই গ্রামের মৃত মুন্তাজ এর ছেলে মোস্তফার সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর দুটি ছেলে শাওন (১৩) এবং শাফিন (৩) জন্মগ্রহণ করে। এর মধে ছোট ছেলেটা প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বামীর সাথে মাঝে মধ্যেই অশান্তি সৃষ্টি হয়। বিবাহের পর থেকে তার স্বামী এবং তার আতœীয় স্বজন তার কাছে প্রায়ই যৌতুকের টাকা দাবী করে আসছিল। দাবীকৃত টাকা না পাওয়ায় প্রতিবন্ধী সন্তানসহ স্ত্রীকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তাকে গুরুত্বর ভাবে মারপিট করে আহত করে এবং দুই সন্তানসহ বাড়ী হতে তাকে তারিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ডলি তার স্বামীসহ অন্যান্যর বিরুদ্ধে ১৪ ফেব্রুয়ারি /১৬ আতাইকুলা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার নং ০৬। যা জেলা পাবনার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী-৩ আদালতে বিচারাধীন আছে। উক্ত মামলায় তার স্বামীকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ্দ করে। বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলা হাজতে প্রেরন করে। দীর্ঘদিন জেল হাজত খেটে সম¯প্রতি জামিনে মুক্তি পায়। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেয় । এমনকি প্রানে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। গত ১৩ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যার পর খাওয়া দাওয়া করে একই পালংচকের উপর গরমের দিন হওয়ার কারনে ঘরের পুর্বদিকের জানালা খোলা রেখে ডলি, ডলির বৃদ্ধা মা এবং দুই নাবালক শিশু সহ শুইয়ে পড়ে। আসামীদের শত চাপ সৃস্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেও মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় রাত অনুমান ৯ টার দিকে মোস্তফা (৪১) গং বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করে । মোস্তফার হাতে বোতলে এসিড জাতীয় তরল পদার্থ ডলিকে পোড়ায়ে ঝলসায়ে মারার জন্য তার দিকে ছুড়িয়ে দেয়। উক্ত এসিড জাতীয় তরল পদার্থ ডলির পিঠে লেগে পড়নের জামা কাপড় পুড়ে তার পিঠসহ শরীরের অন্যান্য অংশ ঝলসিয়ে যায়। তার চিৎকারে তার মা রাশিদা বেওয়া(৬০), ছেলে শাওন ও শাফিন জেগে উঠে এবং আসামীদের কয়েকজনকে চিনতে পারে। এসময় আসামীরা পালিয়ে যায়। এসিডে দগ্ধ হয়ে চিৎকার করতে থাকলে ডলিকে রাতেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল আতাইকুলা থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছে ভিকটিম ডলি।