মামলা তুলে নিতে হুমকি, তিন ছাত্রী বাড়িছাড়া!

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরে উত্ত্যক্তের শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে উত্ত্যক্তকারীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তার অভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের স্কুল ও কলেজপড়ুয়া তিন ছাত্রী প্রায় এক মাস ধরে বাড়িছাড়া। অন্য সদস্যরাও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

উত্ত্যক্তের শিকার ও ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, শুধু হুমকিতে থেমে নেই। উত্ত্যক্তের ঘটনায় করা দুটি মামলা তুলে নিতে তাঁদের পরিবারের অন্তত ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে পাল্টা একটি মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। উত্ত্যক্তকারীদের স্বজন এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে ৭ জুন আদালতে চাঁদাবাজির মামলাটি করেন। এই মামলায় মেয়েটির বাবা, চার চাচা, দাদাসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও উত্ত্যক্তের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উপরন্তু চাঁদাবাজির মামলায় পরিবারটির সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

উত্ত্যক্তের শিকার মেয়ের দাদা (৭২) অভিযোগ করেন, উত্ত্যক্তের ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে উত্ত্যক্তকারীর স্বজনদের হাতে মেয়েটির বাবা প্রথম মারধরের শিকার হন। সেটা গত ২৫ মের ঘটনা। ওই ঘটনায় ২৬ মে গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। পুলিশ দুই দিন পর ২৮ মে অভিযোগটি রেকর্ড করে। উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

ওই মামলা হওয়ার পর উত্ত্যক্তকারীর স্বজনেরা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মেয়েদের বাড়িতে ঢুকে ২৯ মে ছাত্রীর বাবা, দুই চাচাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে এবং দাদাকে মারধর করে। ওই ঘটনায় ১ জুন মেয়েটির দাদা বাদী হয়ে আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় উত্ত্যক্তকারী নুরুল হক, তাঁর বাবা আবদুল হক, স্বজন আয়নাল হক, জয়নাল আবেদীন, আশরাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, মিল্টন, বাবুসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মেয়েটির দাদা অভিযোগ করেন, উত্ত্যক্তকারীরা মেয়েটির বাবার বুকে রড ঢুকিয়ে দিয়েছে। দুই চাচার মাথা ও শরীরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। টানা ১০ দিন তাঁরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ১২ জুন তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু উত্ত্যক্তকারীদের আস্ফালন বন্ধ হয়নি। তারা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যথায় পরিণতি খারাপ বলেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। এখন উত্ত্যক্তকারীদের নজরদারি আর তাদের করা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার-আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। পুলিশের অসহযোগিতায় আর উত্ত্যক্তকারীদের হুমকির মুখে বসবাস করছেন তাঁরা। নিরাপত্তার অভাবে পরিবারের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উত্ত্যক্তকারীদের স্বজন জয়নাল আবেদীন গত বৃহস্পতিবার দাবি করেন, পরিস্থিতির কারণে তাঁদের প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ সত্য নয়। উপরন্তু তাঁরাই পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপসের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তারেকুল ইসলাম সরকার বলেন, তিনটি মামলার তদন্ত চলছে। এ কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তবে উত্ত্যক্তের শিকার পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখানোর খবর পুলিশের জানা নেই। এ-সংক্রান্ত ঘটনায় থানায় অভিযোগও করেনি কেউ। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

Advertisment ad adsense adlogger