প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে ঘরে ফিরে যাবো না

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা বলেছেন আমরা প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস পেলেই অনশন সমাপ্ত করবো।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি থেকে এ আবেদন জানান তারা। এসময় সারা দেশ থেকে আগত প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনে অংশ নেন, যশোরের হুমায়ুন কবির। তার বয়স ৫২ বছর। তিনি ১৮ বছর ধরে একটি ইবতেদায়ি মাদরাসায় চাকরি করেন। কিন্তু তার চাকরি এখনও সরকারি হয়নি। চাকরি জীবনের বয়স আর বাকি আছে চার বছর। বীনা বেতনেই তার চাকরি জীবন শেষ হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন,এভাবে আর বেচে থেকে কি লাভ। সমাজে কোন মূল্য পাই না। চাকরি জাতীয়করণের আশ্বাস না পেলে আর ঘরে ফিরে যাবো না। শিক্ষকতা করে কি অপরাধ করলাম। কি অপধার আমাদের। জীবনের শেষ সময়ে এসে এখনও প্রশ্নের জবাব পাইনি।
নয়দিন ধরে এসব শিক্ষক বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন। সারা দেশে প্রচন্ড শীতে জনজীবন জবুথবু হয়ে পড়েছে। মানুষ শীতের কাপড় পরেও হার কাপানো শীতের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সারা দেশে রেকর্ড পরিমাণ শীত পড়েছে। কিন্তু এ শীতের নিজেদের দাবি আদায়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন স্বতন্ত্র মাদরাসা শিক্ষকরা। তারা বলছেন আমাদের এ দাবি দীর্ঘদিনের। দাবি আদায়ে আমাদের আর কোন উপায় ছিলনা। তাই আমরা রাজপথে অবস্থান নিয়েছি।
তারা বলেন,দাবি আদায়ে আমরা আট দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু তাতেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সারা পাওয়া যায়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তারা বলেন, দাবি আদায়ে আমরা কেবল প্রধান মন্ত্রীর আশ্বাস পেলেই অনশন ভাংবো। অন্য কারো কথায় আমাদের বিশ্বাস নেই। প্রধানমন্ত্রীই পারেন আমাদের এ দাবি মেনে নিতে। তিনি কথা দিলেই আমাদের চাকরি জাতীয়করণ হবে। আমরা বিশ্বাস করি তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেন।
শিক্ষকরা জানান, সারাদেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো এ সুযোগ পায়নি। তারা জানা সরকার বলছে সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। এদের সব ধরনের শিক্ষার ব্যয় সরকারের। কিন্তু আমরা প্রাথমিক শিক্ষার কাজ করলেও কোন বেতন পাইনা। আমরা সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাই না।
তারা জানান, আমরা বিনা বেতনে শিক্ষা দান করে মানবেতর জীবন যাপন করছি এভাবে আর জীবন যাপন করা যায না। সমাজে আমাদের কোন মূল্যায়ন নেই। পরিবারেও আমাদের কোন দাম নেই। তাহলে আমাদের বেচে থেকে কি লাভ। আমরা আর সমাজের বোঝা হয়ে বেচে থাকতে চাই না। আমাদের মনে এতই কষ্ট যে আমাদের গায়ে শীত লাগে না।
এ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি পেতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো জাতীয়করণ করে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেন প্রযোজনে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তার পরেও দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবো না।
উল্লেখ্য, এর আগে নন-এমপিওভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নামেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার করেন তারা।

2018-01-10T12:09:41+00:00January 10th, 2018|বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত|
Advertisment ad adsense adlogger