বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান খিজির খান হত্যার ঘটনায় শোকাহত তার নিজ গ্রাম কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগরসহ আশপাশের মানুষ। ধর্মভীরু ও দেশপ্রেমিক মানুষটিকে জঙ্গি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে দাবি তাদের। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠকের হত্যার কারণ তদন্ত সাপেক্ষ উদঘাটন ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করেছেন তারা। নিহতের ছোট ভাই ইলিয়াস খান বলেন, ঈদুল আজহার একদিন আগে শেষবারের মতো নিজ গ্রামে এসেছিলেন খিজির খান। বেশিরভাগ সময় ইবাদত বন্দেগী নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও গ্রামের মানুষের কষ্ট দেখতে পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। গ্রামবাসীর সঙ্গে নানা বিষয়ে কথাবার্তাও হয়েছিল সেসময়। জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কার বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন। তিন দিন গ্রামের বাড়িতে কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে যান। গত সোমবার রাতে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকে মুহ্যমান এলাকাবাসী। তারা কোনোভাবেই মৃত্যু সংবাদ মেনে নিতে পারছেন না। তারা হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। খিজির খান তার নিজ বাড়ির সঙ্গে গড়ে তুলেছেন রহমতিয়া খানকাহ শরিফ। সেখানে প্রতি সপ্তাহে মাহফিল হয়। তিনি এখানকার পীর হওয়ায় কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে তার অনেক ভক্ত, মুরিদান রয়েছে। সকল মানুষের সঙ্গে সু-সর্ম্পক ও সুফি দর্শনে বিশ্বাসী হওয়ায় কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল না তার। ধর্ম নিয়ে আলোচনা ও সাম্প্রতিক সময়ে বুদ্ধিজীবী হত্যার ধারাবাকিতায় জঙ্গিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু বলেন, খিজির খান যেমন ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, তেমনি ছিলেন ধার্মিক ও পরোপকারী। তিনি ধর্মীয় নীতি আদর্শের আলোকে সমাজ সংস্কারক হিসেবেও ভূমিকা রাখতেন। এলাকার উন্নয়নেও তিনি ছিলেন অগ্রদূত।সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত রাজধানীর মধ্যবাড্ডার গোদারাঘাট এলাকার নিজ বাসায় ঢুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের জিম্মি করে গলা কেটে হত্যা করে খিজির খানকে। আগামীকাল বুধবার এলাকায় জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।