স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের যুগে নিজের আবেগ প্রকাশ করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই। নতুন বছরে পাওয়া কাগজের ডায়েরির ওপর জমতে থাকে ধুলা। ডায়েরির ব্যবহার কমে গেছে, কিন্তু আবেদন কমেনি। গুছিয়ে হোক কিংবা অগোছালো যেকোনো কথা ডায়েরির পাতায় এখনো লিখে রাখেন অনেকে। বহু বছর পরে যখন নিজের লেখা দেখবেন, তখন হবে অন্য রকম অনুভূতি। যা হয়তো ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া যাবে না। লেখক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, মানুষের মনের আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ করার একটি মাধ্যম হলো ডায়েরি। অনেক সময় পুরোনো ডায়েরির ইতিবাচক স্মৃতিগুলোই আপনাকে আলোড়িত করে তুলবে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে ভুলগুলো নিজেকে শুধরে নিতে সাহায্য করবে। নতুন বছরের ডায়েরি চাহিদা ও রুচির কথা বিবেচনা করে ডায়েরি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাদের জন্য রাখেন নানা রকম ডায়েরি। ঢাকার আজাদ প্রোডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ডায়েরির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠান ডায়েরি তৈরি করে দেয়। অনেক ক্রেতা আমাদের পছন্দের নকশায় ডায়েরি তৈরি করেন। আবার কেউ কেউ নকশা নিয়ে আসেন, আমরা সে নকশা অনুযায়ী ডায়েরি তৈরি করে দিই। আজাদ প্রোডাক্টস এ বছর মোট ১৮ থেকে ২২টির মতো ডায়েরির নকশা করেছে। নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে দাম ঠিক করা হয়েছে। আজাদ প্রোডাক্টসের ভিআইপি সাধারণ ডায়েরির দাম ৮০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা। সাধারণ ডায়েরি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। সাধারণ ডায়েরি (মাঝারি) ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। সাধারণ ডায়েরি (ছোট) ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডায়েরি (মাঝারি) ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডায়েরি (ছোট) ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা।
পুরানা পল্টনের ওরিয়েন্ট প্রোডাক্টসের ডিজাইনার ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানান, দেশে তৈরি ডায়েরি যেমন বিক্রি হচ্ছে, তেমনি আমদানি করা বিদেশি ডায়েরিও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। ফরমাশ দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ডায়েরি তৈরি করা হয় বলে জানান তিনি।
ডায়েরির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও নানা ধরনের ডায়েরি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। পসরা সাজিয়ে বসেছে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতারা। নীলক্ষেতে তেমনি একটি দোকান ‘মায়ের দোয়া স্টল’। দোকানটির স্বত্বাধিকারী মো. শামসুর আলম বলেন, অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা ডায়েরিই মূলত আমরা বিক্রি করে থাকি। এগুলোর মধ্যে আছে সাধারণ ডায়েরি, ভিআইপি ডায়েরি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডায়েরি ইত্যাদি। আকার, আকৃতি ও মলাটের ধরন অনুযায়ী এগুলোর দাম পড়বে ১০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। তবে খুচরা মূল্যের চেয়ে পাইকারি মূল্য সাধারণত কম হয়ে থাকে। ছোট আকারের পকেট ডায়েরি পাওয়া যাবে ৩০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
কোথায় পাবেন ডায়েরির সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে বাংলাবাজার ও পুরান পল্টন। এ ছাড়া নিউমার্কেট, গুলশান, পুরান ঢাকা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, লালবাগে রয়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজার। এলাকাভিত্তিক স্টেশনারি বা বই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে আপনি খুচরায় কিনতে পারবেন। এ ছাড়া হলমার্ক, আর্চিস গ্যালারি ইত্যাদি দোকানেও পাওয়া যাবে বাহারি ডিজাইনের ডায়েরি। আড়ং, যাত্রা ইত্যাদি ফ্যাশন হাউসে পাবেন হাতে তৈরি কাগজে বানানো ডায়েরি। দাম থাকবে হাজার টাকার মধ্যেই।