(প্রথম পর্ব)

কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক৷৷ কুষ্টিয়া শহরের প্রান কেন্দ্র পুলিশ লাইনের প্রধান গেটের সামনে ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বারে দিনের পর দিন রোগীদের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারনা করা হচ্ছে। সুত্রে জানা যায়, ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বার এর মালিক ডাঃ রফিকুল ইসলাম উজ্জল এর এর বাড়ী মাদারীপুর জেলায়। রফিকুল ইসলাম উজ্জল ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বর্তমানে কুষ্টিয়াতে তার ব্যক্তি গত ইন্ডিয়া হারবাল, কলিকাতা হারবাল মেডিকেয়ার, ইবনে সিনা হারবাল সহ সারা দেশে ৩৬ টি হারবাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার প্রধান অফিস ঢাকা। রফিকুল ইসলাম নিজের নামে ইন্ডিয়া হারবাল এর পাশাপাশি রোগীদের সাথে প্রতারনার জন্য বিভিন্ন নামে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান করে রেখেছে। একই ব্যক্তি সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনার জন্য কুষ্টিয়া শহরে তিনটি ভুয়া চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র খুলে নামে মাত্র পাশ করা হাকিম বা কবিরাজ এমন কি ম্যানেজার দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সাধারন মানুষ পত্র পত্রিকায় চোখ জুরানো বিজ্ঞাপন ও গ্যারান্টি দেখে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরের প্রান কেন্দ্র পুলিশ লাইন এর সামনে প্রশাসনের নাকের ডগায় রফিকুল ইসলাম উজ্জল একজন শিক্ষানবীশ ডাক্তার দিয়ে এতোদিন চিকিৎসা সেবা চালিয়ে আসছে। এই প্রতারক তার সকল প্রতিষ্ঠানে একজন পিয়ন ও একজন করে ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। এছাড়া সকল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে তার নিয়মিত রোগী দেখার কথা উল্লেখ রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী একজন চিকিৎসক যে বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেছে তাকে শুধু সে বিষয়ে চিকিৎসা অধিকার দেওয়া আছে। অথচ এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান করে আয়ুর্বেদিক ও হারবাল প্রতিষ্ঠানের একজন ম্ত্রা ভুয়া সার্র্টিফিকেটধারী চিকিৎসক স্বাস্থ্যহীনতা, যৌনদুর্বলতা ও হাপানীসহ ডজনখানিক রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এক কথায় রোগ যায় হোকনা কেন সকল চিকিৎসা আছে এদের কাছে। রেজিষ্টার্ড ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড একজন হাকীমকে যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বলে সার্টিফিকেট প্রদান করবে তাকে সে বিষয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। এছাড়া হারবাল আইনে কোন হারবাল চেম্বার তার প্রতিষ্টানের সাইন বোর্ড ব্যানার তার বাড়ী ও চেম্বার ছাড়া আর কোথাও ব্যবহার করতে পারবে না। বিজ্ঞাপনে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যা মুখে উচ্চারন করার মত নয় । এই বিষয়ে পুলিশ লাইনস্ স্কুলের একজন অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে ২য় শ্রেনীতে পড়ে, ইন্ডয়িা হারবালের বিজ্ঞাপন দেখে আমাকে প্রশ্ন করে বাবা যৌন দুর্বলতা কি?এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর অভিভাবকরা দিতে পারেন না, যাতে করে এইসব কোমলমতি বাচ্ছাদের মনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কোন প্রকার বিজ্ঞাপনের অনুমতি ও নেই এই চিকৎিসকদের নীতিমালা ও আচরন বিধিতে। এসব নিয়মের কোনটাই মানছেন না ইন্ডিয়া হারবাল সহ প্রায় তিন ডজন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম উজ্জল। প্রতারনার একটি প্রধান শর্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানের দেশের আর কোথাও শাখা নেই। প্রতিটি শাখায় চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে সাইন বোর্ডে উল্লেখ করা হয় যে তাদের কোন শাখা নেই। এব্যাপারে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কথা হলে তিনি ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বারের সাড়া দেশের সব গুলো শাখাকে বৈধ বলে দাবি করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন প্রশাসনের সামনে ব্যবসা করতে হলে প্রতিমাসে মাসোহারা দিতে হয় এছাড়া সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে
প্রশাসনের সামনে ব্যবসা করতে হলে প্রতিমাসে খরচ দিতে হয় এছাড়া সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতেও প্রতিমাসে কয়েক হাজার টাকা দেয়া লাগে। এই প্রতারক উজ্জল কুষ্টিয়ার কয়েকজন জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের সাংবাদিক এর নাম করে বলেন এখানে ব্যবসা করতে তাদের প্রতিমাসে বড় অংকের টাকা দিতে হয় ত্ইা আমার নামে লিখে কোন কোন ফল হবে না। ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বার চিকিৎসার নামে প্রতারনা করে অসহায় রোগীদের থেকে প্রতারক দালালদের মাধ্যমে হ্জাার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে শহরে আসা সাধারন রোগীদের থেকে। যেখানে একজন বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার রোগ নিরাময়ে কোন গারান্টি দিতে পারে না। সেখানে ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বার শতভাগ গারান্টি সহকারে মাত্র ৭ দিনে জটিল ও কঠিন রোগের স্থায়ী সমাধান দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে তাদের সর্বশান্ত করছে। ভুয়া প্রতারনাকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া হারবাল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ রফিকুল ইসলাম উজ্জল একজন ডাক্তার অথচ তার প্রতিষ্ঠান রয়েছে সাড়া দেশে ৩৬টি। তিনি জানান কুষ্টিয়া ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বারে কোন ভুয়া ডাক্তার নেই এখানে নজরুল ইসলাম নামে একজন নিয়মিত ডাক্তার রয়েছেন। নজরুল লেখাপড়ার পাশাপাশি ডাক্তারি করতেন বর্তমানে লেখাপড়া শেষ করে সে নজরুল একজন পূর্নাঙ্গ ডাক্তার। এব্যাপারে নজরুল ইসলাম কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু তিনি তার ডাক্তারির কোন সঠিক কাগজ পত্র দেখাতে না পেরে জানায় রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য কাগজ পত্র জমা দেওয়া হয়েছে।্ বর্তমানে এই প্রতারক নজরুল ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের এক মাত্র কর্নধার। যার কারনে রফিকুল ইসলাম কে মাসে একবার শুধু মাত্র হিসেব নিতে আসলেই হয়। বর্তমানে এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাধিন কুষ্টিয়া সুগার মিল এলাকার মিলন জানায়, সে অনেক দিন ধরে একটি রোগের চিকিৎসা নিয়ে আসছে। প্রথমে তিনি কুষ্টিয়া স্যাট কম টেলিভিশন এ বিজ্ঞাপন দেখে ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বারে ফোন করে চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে চাইলে ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বারের পুলিশ লাইন এর সামনের শাখায় আসতে বলা হয়। চিকিৎসার নামে ডাক্তারি ফি সহ একটি লেবেল বিহিন বোতল ধরিয়ে দিয়ে ২২ শত টাকা দিতে বলে এবং আবার ১০ দিন পরে আসতে বলে। এভাবে কয়েক বার গেলেও আমার চিকিৎসার কোনই পরিবর্তন হয়নি। ইন্ডিয়া হারবাল চিকিৎসার অন্তরালে রোগীদের হাতে তুলে দিচ্ছে যৌন উত্তেযক ট্যাবলেট ও মাদক দ্রব্য। বিভিন্ন জটিল ও যৌন রোগের চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে শহরে এসে প্রতারিত হচ্ছে রোগীরা। গ্রামের শহজ সরল মানুষের কাছে সু কৌশলে ২৪ ঘন্টায় সমাধানের নিশ্চয়তা দিয়ে বিক্রয় করা হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও মাদক দ্রব্য। গ্যারান্টি সহকারে চিকন স্বাস্থ্য মোটা করন, হাঁপানী, এ্যাজমা, পাইলস, যৌন, চর্ম ও মাত্র সাত দিনে টাক মাথায় নতুন চুল গজানোর বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে এই প্রতারনা করা হচ্ছে। ক্যাবল টিভিতে যৌন সমস্যা সমাধানে অশ্লিল ভাষা ও খোলা পোষাকের ভিডিও প্রচার করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। সকল ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ এই সকল হারবাল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তবুও একটি চক্রকে ম্যানেজ করে এধরনের অশ্লিল বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। দৌলতপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যবসায়ী জানায়, তিনি দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক দুর্বলতায় ও যৌন সমস্যায় ভুগতে ছিলেন যার সমস্যা সমাধানে তিনি কুষ্টিয়া ইন্ডিয়া হারবাল চেম্বারে গেলে তাকে যৌন রোগের সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘন্টার কথা বলে একটি ট্যাবলেট হাতে ধরিয়ে বলে রাতে ঘুমানোর আগে খেয়ে নিতে তাতেই সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আর একটি ফাইল দিয়ে বলে আগামী এক সপ্তাহ খাবেন “এই এক ফাইলেই যথেষ্ট। এভাবে চিকিৎসার নামে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়াবাসীর সাথে প্রতারনা করছে ইন্ডিয়া হারবাল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম। হারবাল আইন অনুযায়ী এই সকল চিকিৎসা সেবা যারা দিয়ে থাকেন তারা নামের আগে হাকিম লিখতে হবে। কিন্তু তারা হাকিম না লিখে ডাঃ লিখে গ্যারান্টি সহকারে চিকিৎসার নামে মানুষের সাথে প্রতারনা করছে।

ইন্ডিয়া হারবাল নিয়ে একুশে টিভির প্রতিবেদন : https://www.youtube.com/watch?v=iHxSb-24pV4