শত প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্রতাকে হার মানিয়েছে অদম্য মেধাবী সবুজ

কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ॥ কুষ্টিয়া জেলার, দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের জাকির হোসেনর ছেলে অদম্য মেধাবী সবুজ। অনেক প্রতিকুলতার মাঝেও এবারের জেএসসি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া জেলার, দৌলতপুর উপজেলার লালনগর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের থেকে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ।
সে প্রাথমিক পরীক্ষাতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছিলো। সবুজের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার, দৌলতপুর উপজেলার কালিদাশপুর গ্রামে। সবুজের পিতা জাকির হোসেনর পূর্বে চায়ের দোকানে কাজ করলেও বর্তমানে বেকার । মা নুরনাহার গৃহীনি। কঠিন রোগে আক্রন্ত মায়ের চিকিৎসা সেবাও সে ঠিকমত প্রদান করতে পারে না । এক ব্যাগ রক্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয় মাসের পর মাস । তার বাবার যে আয় তা দিয়ে সংসারের ভরন পোষন ও দুই ছেলের লেখা পড়া চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাদের জমি জমা না থাকায় অন্যের জমিতে রয়েছে শুধুমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই। সবুজের বড় ভাই সাহাবুল বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত । এই পরিবারের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে সবুজের লেখাপড়ার খরচ তো দূরের কথা পরিবারের দুবেলা দুমুঠো খাবার সংগ্রহ করতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয় তার বাবাকে । সাহাবুল রাজশাহীতে একটি কোচিং সেন্টারে পার্টটাইম শিক্ষক হিসেবে কর্মরত । কোচিং থেকে যা পায় তা দিয়ে নিজেই চলতে পারে না । সাহাবুল এইচএসসি পড়া কালীন অন্যের বাড়িতে কাজ করে নিজের পড়পশোনা চালিয়েছে । সবুজের বাবা জাকির হেসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার দুইটা ছেলেই পড়াশোনায় অনেক ভাল । কিন্তুু আমার সামর্থ্য নাই আমার ছেলেদের চাহিদা মোতাবেক তাদের পড়াশোনার খরচ চালানো । স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান সবুজ অত্যন্ত মেধাবী । ওকে আমরা স্কুলের পক্ষ থকে ওর বেতন,পরীক্ষার ফি আমরা ওর কাছে থেকে নিই না । আমার স্কুলের ইংরেজী শিক্ষক জগলুল করিম ও গনিতের শিক্ষক ফিরোজ ওকে ফ্রিতেই প্রাইভেট পড়াচ্ছে । আমরা আমাদের স্কুলের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি । কিন্তুু আমাদের এই সহযোগিতা তার জন্য অপ্রতুল । সবুজের কাছে তার স্বপ্ন কি জানতে চাইলে সে ডাক্তার হবার কথা জানায় । কিন্তুু তার চোখমুখে সেই শংশয় ও নানা বাধা । তবে সে নিজেই জানে না তার স্বপ্ন পূরন কিভাবে হবে।

Advertisment ad adsense adlogger