প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের শিক্ষকের কাছে পাঠানো এক ঐতিহাসিক চিঠি ।

মুজিবনগর প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন তাঁর পুত্রের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। যা পরবর্তীতে ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করে । কয়লার খনিতে বেড়ে ওঠা জগৎ বিখ্যাত লিংকনের সে চিঠি আজো বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় হয়ে আছে। চিঠিটি শুধু বাবাদের জন্যই আদর্শ নয; প্রতিটি সচেতন এবং সজাগ মানুষের জন্যই হতে পারে অনুসরণীয় একটি অনবদ্য পরামর্শগাথা । চিঠিটি অনেকেরই পড়া। তবুও আজ কস্ট করে না হয় আরেকবার পরলেন, যদি নতুন কিছু অনুধাবন করা যায়- চিঠিতে যা লেখা ছিলো মাননীয় মহাশয়, আমার পুত্রকে জ্ঞানার্জনের জন্য আপনার কাছে প্রেরণ করলাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন- এটাই আপনার কাছে আমার বিশেষ দাবি। আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন – সব মানুষই ন্যায়পরায়ণ নয়, সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়। তাকে এও শেখাবেন প্রত্যেক বদমায়েশের মাঝেও একজন বীর থাকতে পারে, প্রত্যেক স্বার্থবান রাজনীতিকের মাঝেও একজন নিঃস্বার্থ নেতা থাকে। তাকে শেখাবেন পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান। এও তাকে শেখাবেন, কিভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কিভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দিবেন। যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন আগে ভাগেই এ কথা বুঝতে পারে- যারা পীড়ন কারী তাদেরই সহজে কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কি রহস্য আছে তাও তাকে বুঝতে শেখাবেন। আমার পুত্রকে শেখাবেন – বিদ্যালয়ে নকল করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশী সম্মানজনক। নিজের উপর তার যেন সুমহান আস্থা থাকে। এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুলও মনে করে। তাকে শেখাবেন, ভদ্রলোকের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে। আমার পুত্র যেন এ শক্তি পায়- হুজুগে মাতাল জনতার পদাঙ্ক অনুসরণ না করার। সে যেন সবার কথা শোনে এবং তা সত্যের পর্দায় ছেঁকে যেন ভালোটাই শুধু গ্রহণ করে- এ শিক্ষাও তাকে দিবেন। সে যেন শিখে দুঃখের মাঝে কীভাবে হাসতে হয়। আবার কান্নার মাঝে লজ্জা নেই একথা তাকে বুঝতে শেখাবেন। যারা নির্দয়, নির্মম তাদের সে যেন ঘৃণা করতে শেখে। আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ থেকে সাবধান থাকে। আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন কিন্তু সোহাগ করবেন না। কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস না থাকে, থাকে যেন সাহসী হওয়ার ধৈর্য। তাকে এ শিক্ষাও দিবেন- নিজের প্রতি তার যেন সুমহান আস্থা থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানবজাতির প্রতি। ইতি আপনার বিশ্বস্ত আব্রাহাম লিংকন। আব্রাহাম লিংকন সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ আব্রাহাম লিংকনের (জন্ম ফেব্রুয়ারি ১২, ১৮০৯ – মৃত্যু এপ্রিল ১৫, ১৮৬৫) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি। তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রথম রাষ্ট্রপতি, এবং ১৮৬১ হতে ১৮৬৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। দাস প্রথার চরম বিরোধী লিংকন ১৮৬০ সালে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৮৬৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাস প্রথার অবসান ঘটান এবং মুক্তি ঘোষণা (Emancipation Proclamation) এর মাধ্যমে দাসদের মুক্ত করে দেন। দাস প্রথাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহ যুদ্ধের সময় তিনি উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন বাহিনীর নেতৃত্ব দেন, এবং দক্ষিণের কনফেডারেট জোটকে পরাজিত করেন। জন উইল্ক্স বুথ নামক আততায়ীর হাতে তিনি ১৮৬৫ খ্রীস্টাব্দের ১৫ এপ্রিল গুলিবিদ্ধ ও নিহত হন। আধুনিক বিশ্লেষকেরা লিংকনকে মার্কিন রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে সবার উপরে স্থান দিয়ে থাকেন। মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর চিরস্থায়ী প্রভাব রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান মতবাদের পুনরুত্থানে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম । লেখক জাগো মুজিবনগর পেজ এর পরিচালক ও দৈনিক মাটির ডাক পত্রিকার তরুণ সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম । একজন লেখকের জন্য পাঠকের মন্তব্য অনেক গুরুত্বপুর্ন। আশা করি আপনারা এই লেখাটি নিয়ে আপনাদের মতামত জানাবেন। 01790459045/01970459045

2018-01-28T07:07:37+00:00January 28th, 2018|শিক্ষা ও সংস্কৃতি|
Advertisment ad adsense adlogger