“বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা” প্লাজমা বিজ্ঞানী ড.এ এ মামুন

১.সমুদ্রের তীরে বসে দীর্ঘ সময় রাতের খোলা নীল আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে ঘাড় ব্যথা করে ফেলেছি, কিন্তু কোন রমণীর সুন্দর মুখ তো অনেক দূরের কথা, কোন রমণীর কায়াটুকুও খুঁজে পাইনি, একই ভাবে বৃক্ষরাজির পাশে বসে বহুবার রাতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি, কোনো এলোকেশী নারীর এলোকেশ তো অনেক দূরের কথা, উড়ে আসা ধান গাছের কোনো শুকনো খড়ও দেখতে পাইনি, কারণ প্রাকৃতিক অপার সুন্দর্য্যের উপর গবেষণা করার আগ্রহ বা দক্ষতা কোনোটাই আমার মধ্যে জন্মাতে পারিনি। তাই আমি চাঁদকে চাঁদই দেখি, আর গাছকে গাছই দেখি। আমার এ ব্যর্থতার উপমা দেয়ার একটিই কারণ, সেটি হলো প্রকৃতি ও প্রকৃতির কথা, জীবন ও জীবনের কথা, মানুষ ও মানুষের কথা, সমাজ ও সমাজের কথা, ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ের উপর যিনিই গবেষণা করুন না কেন, তিনিই গবেষক, তিনিই সত্য ও সুন্দরের সাধক। বিজ্ঞান ভিত্তিকই হোক বা শিল্পকলা ভিত্তিকই হোক, আজ যে গবেষণালব্ধ তথ্য সঠিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে, কালকে যে সেটি ভূল বলে প্রমাণিত হবে না, সেটা কেউই বলতে পারে না। গবেষণার ফল যাই হোক না কেন, সত্যিকারের গবেষণা মস্তিস্ককে শানিত করে এবং সেই সঙ্গে সময় উপযোগী জ্ঞান দান করে। এই শানিত মস্তিস্ক আর সময় উপযোগী জ্ঞান দ্বারা যিনি শিক্ষার্থীকে পাঠ দান করেন তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে। এ জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতিতে গবেষণা মূলক প্রবন্ধদের সংখ্যা শর্ত হিসেবে বিবেচণা করা হয়, কলেজ শিক্ষকদের পদোন্নতিতে তা করা হয় না, এটাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা অন্যতম পার্থক্য। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বা গবেষণার কোনো পরিবেশ নেই, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় কিনা – এ প্রশ্ন আমার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষতেও থাকবে যে পর্যন্ত না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন। বিজ্ঞান ভিত্তিকই হোক বা শিল্পকলা ভিত্তিকই হোক, আজ যে গবেষণালব্ধ তথ্য সঠিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে, কালকে যে সেটি ভূল বলে প্রমাণিত হবে না, সেটা কেউই বলতে পারে না। গবেষণার ফল যাই হোক না কেন, সত্যিকারের গবেষণা মস্তিস্ককে শানিত করে এবং সেই সঙ্গে সময় উপযোগী জ্ঞান দান করে। এই শানিত মস্তিস্ক আর সময় উপযোগী জ্ঞান দ্বারা যিনি শিক্ষার্থীকে পাঠ দান করেন তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে। এ জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতিতে গবেষণা মূলক প্রবন্ধদের সংখ্যা শর্ত হিসেবে বিবেচণা করা হয়, কলেজ শিক্ষকদের পদোন্নতিতে তা করা হয় না, এটাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা অন্যতম পার্থক্য। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বা গবেষণার কোনো পরিবেশ নেই, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় কিনা – এ প্রশ্ন আমার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষতেও থাকবে যে পর্যন্ত না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন। ২. অনেক বিশ্লেষক (যদিও আমার মতে শিক্ষকদের শিক্ষা দানের মানদন্ড নির্ণয়ে শিক্ষার্থীরাই বড় বিশ্লেষক) গবেষণা ও পাঠ দানের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চার ভাগে ভাগ করে থাকেন: ক) ভালো গবেষক এবং ভাল শিক্ষক; খ) ভালো গবেষক, কিন্তু ভাল শিক্ষক নন; গ) ভালো গবেষক নন, কিন্তু ভাল শিক্ষক; ঘ) ভাল গবেষকও নন, আবার ভাল শিক্ষকও নন। প্রথম ক্যাটেগরির শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্যাটেগরির শিক্ষকদের নিয়ে আমার কিছুটা হলেও ভিন্ন মত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে চাই: ব্যাক্তি বিশেষে উপস্থাপনা ভিন্নতর হলেও, সত্যিকারের একজন ভাল গবেষক চাইলে ভাল শিক্ষক না হয়ে থাকতে পারে না, কারণ তাঁর রয়েছে শানিত মস্তিস্ক ও সময় উপযোগী জ্ঞান। ভাল শিক্ষক ও ভাল গবেষক, একে অপরের পরিপূরক। তাই, ভাল শিক্ষক অবশ্যই একজন ভাল গবেষক যদি না তিনি সময় উপযোগী জ্ঞান অর্জনে ক্লান্ত না হয়ে পরেন। চতুর্থ ক্যাটেগরির একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধুই একটা Burden। কীভাবে এবং কেন এই Burden কম-বেশি আমাদের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েই চলছে তার কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই শুধু নয়, সকল সচেতন নাগরিকই অনুধাবন করতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস। কর্মচারী/কর্মকর্তা নিয়োগে আমার মত অনেক শিক্ষকেরই তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগে যখন মেধা ও গবেষণার (শানিত মস্তিষ্কের) তেমন কোনো স্থান দেয়া হয় না, তখন অধিকাংশ শিক্ষকই দারুণ ভাবে মর্মাহত হন, সেই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। কারণ এ ধরনের শিক্ষক নিয়োগে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানই কমায় না, সেই সঙ্গে আমাদের প্রিয় সন্তান তুল্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিযোগিতায় নামতে দারুন ভাবে নিরুৎসাহিত করে। আমাদের একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না যে শিক্ষার্থীদের জন্যেই শিক্ষক, শিক্ষকদের জন্যে শিক্ষার্থী নয়। এ অনুধাবন থেকেই ২০১২ সনে আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সম্মানিত শিক্ষক ও সহকর্মীগন আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন এবং সেই সঙ্গে তৎকালীন শিক্ষক-নির্বাচিনী বোর্ডের সভাপতি অর্থাৎ তৎকালীন উপাচার্যকে (অত্যন্ত দূরদর্শী ও উচ্চশিক্ষাবান্ধব মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীর সহযোগিতায়) পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। এ অপ্রাসঙ্গিক কথাটি বলার উদ্দেশ্যে হলো চতুর্থ ক্যাটেগরির শিক্ষক যে কয়েকটি স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে, তার একটি (ব্যাক্তিগত স্বার্থ) পূরণ হলেও বাকি কোনোটাই পূরণ হয় না বলে অন্তত আমি মনে করি। জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষা/গবেষণার মান রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ ক্যাটেগরির শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের কোনো বিকল্প নেই, আর তার জন্যে আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ/দশ মিনিটের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যামে

Advertisment ad adsense adlogger