ইবি সাবেক প্রক্টরের মামলায় প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক ও ইবি প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আদালতের সমন জারী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবর রহমান এর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক জনাব মো: মতিউর রহমান ও ইবি প্রতিনিধি নোমান ইবনে বাসারের বিরুদ্ধে সমন জারী করেছেন ইবি আমুলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মো: মাসুদুজ্জামান। জানা যায় গত ১৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি অনুযায়ী নয়টি প্রশাসনিক পদে রদবদল করেন প্রশাসন। ২১ ডিসেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায় “সাবেক প্রক্টরের গাড়ীচালকের মাদক সেবনের ভিডিও” শিরোনামে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্বোলিত সংবাদ পরিবেশন করলে সংক্ষুদ্ধ হয়ে ২৭ ডিসেম্বর অধ্যাপক রহমান ইবি আমুলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মানহানী মামলা (১৫৪/১৮) দায়ের করেন। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে আজ সমন জারী করেন বিজ্ঞ আদালত। ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও সদ্য বিদায়ী প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান এর আগে ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেসময় প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রবল বাধার মুখে তিনি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও বাংলাদেশের মানচিত্র স্থাপন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। ড. মাহবুবর রহমান ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইসাথে ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০১৪ প্রথম মেয়াদে এবং ২০১৫ সালে ২য় মেয়াদে প্রক্টরের দায়িত্ব পান তিনি। এসময় তিনি ক্যাম্পাসে বিনাপ্রয়োজনে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একইসাথে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছেন। এছাড়া মাদক নির্মূলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ বিভিন্ন স্থানে সফলভাবে অভিযান ও প্রগতিশীলতা চর্চার উর্বরক্ষেত্র তৈরীতে প্রশাসনের বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপে সক্রীয় ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক রহমান। এছাড়াও ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে ইবির ইতিহাসে দৃষ্টান্ত তৈরী করেছেন তিনি। দুর্ণীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রায় প্রতিটির অনুসন্ধানি রির্পোটে তাঁর ভুমিকা প্রশংসিত হয়েছে। ২০১৭ সালে ১৪ আগষ্ট বিনা রক্তপাতে শিবিরের ক্যান্টনমেন্ট নামে ক্ষ্যাত সাদ্দাম হোসেন হলসহ সকল আবাসিক হল প্রগতিশীল কর্মকান্ড পরিচালনার অভয়ারন্য সৃষ্টি করতে সক্রীয় ভুমিকা রাখায় একটি বিশেষ শ্রেণী ও কিছু সুবিধাবাদি অসাধুচক্রের অসন্তষ্টির কারন হলে সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিমুলক অপপ্রচার চালিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালান। অবশেষে তিনি আদালতের আশ্রয় নেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন- “আমি বস্তুুনিষ্ট স্বাধীন মতামত পরিবেশনের পক্ষে কিন্তু রং লাগিয়ে যাঁরা প্রকৃত সত্যকে আঁড়াল করে প্রতিক্রিয়াশীলকে উঁসকে দিয়ে ইবি তথা দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির নকশা তৈরী করে সর্বদাই তাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সর্বজন স্বীকৃত। ক্যাম্পাসের প্রতি ইঞ্চি প্রগতিশীলতা চর্চায় প্রশাসনকে সক্রীয় সহায়তা দিয়েছি। অথচ দীর্ঘদিনের অর্জনকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় সেসব হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিহত করতে আশা করি সুবিচার পাব”। সদ্য বিদায়ী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবর রহমান গত ২৩ ডিসেম্বর আগামী ২ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন।