অভিনেতা থেকে নির্মাতা দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে অর্ধশতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছি। এরপর ভালো লাগা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হই। আমি ২০১৩ সাল থেকে ছবি নির্মাণ করছি। এখন পর্যন্ত্ম আটটি ছবি নির্মাণ করেছি। এবারই প্রথম যৌথ প্রযোজনার ছবি করতে যাচ্ছি। ‘বালিঘর’ আমার পরিচালিত নবম ছবি হতে যাচ্ছে। এই ছবিতে দুই বাংলার গুণী তারকারা অভিনয় করতে যাচ্ছেন। আশা করছি, সব মিলিয়ে ভালো কিছু ঘটবে যৌথ প্রযোজনা ছবির অনুপ্রেরণা সাহিত্য-সংস্কৃতি, আবেগ-অনুভূতি সব কিছুতেই দুই বাংলার মিল রয়েছে। তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- আমরা একই ভাষায় আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি- যৌথ প্রযোজনায় ছবি পরিচালনার ক্ষেত্রে এটাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। একসঙ্গে দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে কাজ করব। বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার নতুন নীতিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনেই ছবিটি নির্মাণ করা হবে। আমি আরও আশস্ত্ম করতে চাই- আমার ছবিতে বাংলাদেশকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হবে। তাই মাত্র তিন দিনের কাজ ভারতে হবে এরমধ্যে একদিন কলকাতায় দুই দিন শান্ত্মি নিকেতনে। বাকি ১৬-১৭ দিন কক্সবাজার, চিটাগাং এবং ঢাকায় শুটিং হবে। আমি হলফ করে বলতে পারি, এতটা নিয়ম মেনে আগে কখনো কোনা যৌথ প্রযোজনার ছবি হয়নি। সে জন্য বালিঘরের পুরোর টিম আনন্দিত। বালিঘর কলকাতার জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্য রচিত ‘ঢেউ আসে ঢেউ যায়’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘বালিঘর’ ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। ‘বেঙ্গল ক্রিয়েশন’ ও ‘নার্থিং বিয়ন্ড’ ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করবে। উভয় দেশের যৌথ প্রযোজনার অনুদান সাপেক্ষে আগামী মার্চ মাস থেকে ছবিটির শুটিং শুরম্ন করব। ছবির কলাকুশলী বালিঘর ছবিতে কলকাতা থেকে অভিনয় করবেন- আবির চ্যাটার্জি, পার্ণো মিত্র, রাহুল ব্যানার্জি। আর বাংলাদেশ থেকে থাকছে- আরেফিন শুভ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, কাজী নওশাবা। এ ছবির চিত্রগ্রাহক হিসেবে রয়েছেন সৌমিক হালদার। এ ছাড়া ছবির সংগীতায়োজন করবেন ভারতের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ বিক্রম ঘোষ ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চিরকুট। এ ছাড়া পান্থ কানায়ের কণ্ঠে একটি গান থাকবে। এপার বাংলা থেকে অভিনয়শিল্পী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি এপার বাংলা নুসরাত ইমরোজ তিশার অভিনয়ের অনেক ভক্ত। ও বরাবরই বেশ ভালো অভিনয় করে। আরেফিন শুভর জন্য আমি ঢাকা অ্যাটাক ছবিটি দেখেছি। ওই ছবিতে সে দারম্নণ অভিনয় করেছে। আমার ছবির মধুময় চরিত্রটির জন্য সে পুরোপুরি মানানসই। এ ছাড়া একই ছবিতে কাজী নওশাবাও বেশ ভালো অভিনয় করছে। মূলত অভিনয় দক্ষতা বিচার করেই ছবির অভিনয়শিল্পী নির্বাচন করেছি। ঢেউ আসে ঢেউ যায় উপন্যাস থেকে বালিঘর … ১৬ বছর পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প নিয়ে বালিঘরের পটভূমি সাজানো হয়েছে। এখানে শান্ত্মিনিকেতনে পড়ুয়া চার বন্ধুর গল্প দেখানো হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কে চড়াই-উতরাই ও মুখ ও মুখশের আড়ালের কিছু কাহিনী এখানে তুলে ধরা হবে। আশা করছি, ছবিটি দর্শকদের মনের মতো করে নির্মাণ করতে পারব। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এপার বাংলায় এখন অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। দুই বাংলার মধ্যে সংস্কৃতির আদান প্রদান হচ্ছে- এটা খুবই ইতিবাচক বিষয়। বাংলাদেশের একজন গুণী অভিনেত্রী জয়া আহসান আমাদের দেশে (কলকাতা) কাজ করছেন। তার অভিনীত একধিক ছবি দর্শকনন্দিত হচ্ছে। জয়ার অভিনয়ও দারম্নণ প্রশংসিত হচ্ছে।