বাংলাদেশের যে কোন সাংস্কৃতিক আন্দোলন তথা সংস্কৃতি কর্মী তৈরিতে যে কয়টি সংগঠন জোরালো ভূমিকা রেখে আসছে তার মধ্যে নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্য যে কোন শাখায় সদর্ভ পদচারণা থাকলেও সংগঠনটি নাটকের বেলায় কেন জানি অনেকটাই উদাসীন। বিশেষ করে নিয়মিত নাট্য প্রযোজনা ও মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে। উদীচী হয়তো শুধু নাট্য সংগঠন নয় বলেই এই ঔদাসিন্যতা। কিন্তু তারপরও যে ক’টি প্রযোজনা তারা মঞ্চে এনেছে তার উপস্থাপনার কলা কৌশল দেখলে বোঝা যায় বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় নাট্যদলগুলোর চেয়ে কোন অংশে কম নয় উদীচীর নাটক বিভাগ। বিশেষ করে এই সংগঠনের ‘বৌ-বসন্তি’ নাটকটি শীর্ষ প্রযোজনাগুলোর মধ্যে অন্যতম তা বলাই যেতে পারে। অথচ নাটকটির নিয়মিত মঞ্চায়ন খুব কমই হয়। এই যখন অবস্থা তখন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার মিলনায়তনে আজ সন্ধ্যা ৭টায় উদীচীর ‘বৌ-বসন্তি’ নাটকের ৫৬তম প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট নাট্যকার অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী রচিত ‘বৌ-বসন্তি’ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যজন আজাদ আবুল কালাম। ‘বৌ-বসন্তি’ নাটকটির সময়কাল ১৯৭১ সাল। যে সময়টায় পূর্ব পাকিস্তানে নাটকের আরম্ভ আর বাংলাদেশে এসে সমাপ্তি। যখন পূর্ব পাকিস্তান ছিল তখনও স্বাধিকার প্রমত্ত বাঙালী ছিল। আর যখন বাংলাদেশ তখনও বাঙালীর মধ্যে লুকিয়ে আছে কতিপয় স্বাধীনতাবিরোধী। এই রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে কোন এক গ্রামীণ জনপদের জীবন বৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে ‘বৌ-বসন্তি’ নাটকে। নাটকটির গল্প ঘুরপাক খায় গ্রামের চোর বদর ও মনুর জীবনের নানা কর্মকান্ডকে কেন্দ্র করে। বদর একই গ্রামের ভিক্ষুকের মেয়েকে ভালবাসলেও তাতে প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে সালিশে গ্রামছাড়া হয়ে গঞ্জে গিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করলেও নতুন বউয়ের নানা বায়না মেটাতে হিমশিম খায় সে। এক পর্যায়ে তার সেই স্ত্রীও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মদদকারী ধূর্ত প্রতারক মঈনের হাত ধরে পালিয়ে যায়। এই সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি নাটকটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা ঘটনাচিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শহর ছেড়ে মানুষের গ্রামে ছুটে চলা, বাজারে নিত্যপণ্যের হাহাকার, রাজাকারদের নানা কর্মকান্ড ফুটিয়ে তোলা ছাড়াও দেখানো হয়েছে কিভাবে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে নানা কূটকৌশলে বিভ্রান্ত করা হতো।