কাজ থাকলে সাধারণত ঘড়ি কিংবা মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখেন কলকাতার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জিৎ। কিন্তু বাংলাদেশে আসার শিডিউল থাকলেই তাড়াহুড়ো করে নাকি তার ঘুম ভেঙে যায়। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিদিন কাজের জন্য অ্যালার্ম দিয়ে রাখি। নির্দিষ্ট সময়ে উঠেও পড়ি। কিন্তু বাংলাদেশে আসার কথা থাকলে যেন একটু আগেভাগেই ঘুম ভেঙে যায়। এইতো এবারো আসার আগে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু ঘুম ভেঙে গেল অ্যালার্মের আগেই। হয়তো এদেশের মানুষের জন্য এটা হয়েছে। কারণ এদেশের মানুষ অনেক আন্তরিক। আপামর সবার আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ, আপ্লুত। এ কারণে বাংলাদেশে আসতে খুবই ভালো লাগে। মনে হয় নিজের ঘরেই আছি, পরিবারের সঙ্গেই আছি। জিৎ বলেন, দুই বাংলায় সিনেমা এমন একটি বিনোদনের জায়গা যেটি আসে তালিকায় রিলিজিয়ন (ধর্ম)-এর পর। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস থেকে বলছি, সিনেমা কোনোদিন বন্ধ হবে না। থামবে না। হল মালিকদের প্রতি আমরা একটাই অনুরোধ থাকবে, আপনারা সিনেমা হল বন্ধ হলে ভয় পাবেন না। আতঙ্কিত হবেন না। বরং সেই বন্ধ হওয়া হলকে পুনরায় চালু করার জন্য উদ্যোগ নেবেন। দেখবেন আগের থেকেও বেশি মানুষ হলমুখী হচ্ছে। কারণ মানুষ বিনোদন চায়, ভালো সিনেমা চায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে জিৎ অভিনীত ‘ইনস্পেক্টর নটি কে’ সিনেমাটি মুক্তি পাবে। এতে তার সহ-অভিনেত্রী বাংলাদেশের নুসরাত ফারিয়া। তার সম্পর্কে জিৎ বলেন, এটা দিয়ে ফারিয়ার সঙ্গে আমার তৃতীয় কাজ। অভিনেত্রী হিসেবে ও খুব ভালো, প্রমিজিং এবং কমিটেড। খুব পরিশ্রমও করতে পারে। কাজের প্রতি তার যে সিনসিয়ারিটি ও কমিটমেন্ট, একদিন তাকে বড় শিল্পী করে তুলবে। জিতের অন্যান্য সিনেমাগুলো রোমান্টিক-অ্যাকশনধর্মী হলেও ‘ইনস্পেক্টর নটি কে’ সিনেমাটি একটু কমেডি ধাঁচের। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে এমন কমেডি ধাঁচের একটি গল্প অনেকদিন ধরে খুঁজছিলাম। যেটা দিয়ে মানুষকে হাসানো যাবে, বিনোদন দেয়া যাবে। সেই ইচ্ছে থেকেই সিনেমাটি করা। আশাকরি দর্শক একটি পূর্ণ বিনোদনের সিনেমা পেতে যাচ্ছে। ইনস্পেক্টর নটি কে’ পরিচালনা করেছেন কলকাতার নির্মাতা অশোক পাতি। জিৎ-ফারিয়া ছাড়াও এতে খরাজ মুখোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসু, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, অমিত হাসান, কৌশিক প্রমুখ অভিনয় করেছেন।