প্রথমে হইচই আর গণ্ডগোল, এবং পরে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়ে জাদু দেখিয়ে চলেছে ‘পদ্মাবত’। মূল চরিত্রগুলো একেক জনের কাছে একেকভাবে ধরা দিয়েছে। শুধু একটা বিষয় আলাদা। ছবিতে দীপিকাকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তিনি দীপিকা। শহীদ কাপুরের অবস্থাও একইরকম। কিন্তু একমাত্র রণবীরের চেহারা আর ব্যক্তিত্বই যেন বদলে গেছে। অনেকের দৃষ্টিতে, এ চরিত্রে রণবীরকে এক সত্যিকারের ‘জানোয়ার’ বলেই মনে হয়েছে। কিন্তু তার এই লুক কে এনে দিলো? রণবীর পর্দায় আসামাত্র দর্শকরা এক নিষ্ঠুর, বিধ্বংসী আর ভয়ংকর কোনো মানুষকে দেখেছে। তার এই লুক কিন্তু স্রেফ মেকআপের গুণে আসেনি। এর জন্যে ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাকে। আপাদমস্তক বদলাতে হয়েছে তাকে। এই অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যে। মন্ত্র দিয়েছেন মুস্তাফা আহমেদ। তিনিই রণবীরকে ‘পদ্মাবত’র আলাউদ্দিন খিলজি বানিয়েছেন। মুস্তাফা জানান, রণবীরকে প্রাথমিকভাবে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে তার লুক বদলাতে যাচ্ছে। এমনিতেই রণবীর পেশিবহুল দেহের অধিকারী। কিন্তু এই দেহকে আরো বেশি পাথুরে আর স্বাস্থ্যবান বানাতে হবে। তাই ট্রেনিং শুরুর আগে রণবীরকে খিলজির চেহারাটা মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি বেশ কঠিন হয়ে ওঠে শুটিংয়ের সময়সূচির কারণে। এমনিতেই প্রাণশক্তিতে ভরপুর রণবীর। কিন্তু শুটিংয়ের সিডিউলের কারণে রণবীর সঠিক নিয়মে প্রশিক্ষণ নিতে পারেননি। আর তার পিঠেও আগের ব্যথা রয়েছে। সব মিলিয়ে অনেক হিসেব কষে রণবীরকে এগোতে হয়। খিলজি হতে খাদ্য তালিকা বদলে যায় তার। শরীরচর্চায় মনোনিবেশ করতে হয়। যেমনটা দরকার তেমনটা না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়মে চলতে থাকেন রণবীর। মাত্র ৬ সপ্তাহে তিনি লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যান। কিন্তু বিপদ থেকেই যায়। এত কম সময়ের মধ্যে এমন দেহ বানানো হলে তা ধরে রাখাও কঠিন বিষয়। কারণ শুটিং চলাকালে তার এমন ‘জানোয়ার’ লুক নষ্ট হলেই সব শেষ! প্রথমেই খাবার থেকে চিনি বাদ দেন রণবীর। প্রক্রিয়াজাত খাবারও বাদ দিতে হয়। এমন খাবার খাওয়ানো হয়নি যা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়েছিল। প্রতিদিন ১২৫-১৫৫ গ্রাম প্রোটিন খেয়েছেন তিনি। প্রতি সকালে ২০ মিনিট কার্ডিও এবং ২০-২৫ মিনিট মোবিলিটি ড্রিল করেছেন। এরপর ডেডলিফট, স্কোয়াটিং, বডি ওয়েট ইত্যাদি ব্যায়ামের মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করে গেছেন। এমনিতেই শক্তিশালী তরুণ রণবীর। কাজেই ব্যায়ামগুলো উপভোগ্য ছিল তার কাছে। আর সত্যিকার অর্থেই এক পেশিবহুল ‘জানোয়ার’ হয়ে উঠেছেন ‘পদ্মাবত’র জন্যে।