কনকনে ঠান্ডায় জমে যায় হাত-পা। শিরশিরে বাতাস যেন গরম কাপড়ের মধ্য দিয়েই যাওয়ার জায়গা খুঁজে বেড়ায়। কদিন ধরেই জাঁকিয়ে বসেছে শীত। শিশুদের আগাগোড়া ঢেকে তবেই বাইরে নিয়ে বের হবেন। মাথার টুপি এসবের একটি। মাথা, নাক ঢাকা থাকলে আরামও পাওয়া যায় বেশ।

বাজার এখন বেশ গরম শীতের টুপিতে। রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, বঙ্গবাজার, গুলিস্তানসহ অনেক জায়গাতেই পেয়ে যাবেন নানা নামের দেশি ও চীনা টুপি। এসব টুপির নাম ও নকশায় আছে ভিন্নতা। একেবারে নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে ১০ বছরের শিশুদের জন্য পেয়ে যাবেন আরামদায়ক ও নানা নকশার টুপি।

বাজারে টুপিগুলোর কাপড়েও আছে ভিন্নতা। উল, পলেস্টার, গেঞ্জি কাপড়ের টুপি রয়েছে বাজারে। অনেক টুপির মধ্যে ভিন্ন করে বিড়াল বা ফুল লাগানো। দেখতে লাগে বেশ। আছে মাঙ্কি টুপি, ঢেকে রাখবে শিশুর নাক ও কান। তবে একেবারে ছোট শিশুদের মাঙ্কি টুপি না পরানোই ভালো। কারণ তাতে শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে মাফলার টুপি, মাফলারের কাজও করে। ক্যাপের মতো একধরনের টুপি এসেছে বাজারে, যা উল ও মোটা সুতি কাপড় দুই ধরনেরই হয়ে থাকে। ঝোলা টুপি এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে এ ধরনের টুপি নবজাতক শিশু বা দু-তিন বছরের শিশুদের জন্য নয়। নবজাতকদের জন্য বেছে নিতে পারেন কিডস চায়নিজ টুপি। গোল আকারের এই উলের টুপিটি শিশুর কান পর্যন্ত ঢেকে রাখবে। টুপির দাম ৫০ থেকে ৩০০ টাকার ভেতর। নকশা ও কাপড়ের ওপর দাম নির্ভর করে। গেঞ্জি কাপড়ের টুপির দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে চায়না ও বাংলাদেশের তৈরি টুপির বাজার বেশি লক্ষ করা গেছে। চায়না থেকে আসা টুপির দাম তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙের তারতম্যের কারণেই দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানালেন অনেক বিক্রেতারা।তবে শিশুদের জন্য ঢিলেঢালা টুপি বেছে নিন। কারণ টুপিতে ব্যবহৃত ইলাস্টিক কপালের কাছে আঁটসাঁট হয়ে থাকলে তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি কপালে দাগও ফেলে দেয়। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আল আমিন মৃধা বলেন, ‘শীতে শিশুদের সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা লাগে মাথার মাধ্যমে। শরীরে যে তাপ উৎপাদন হয়, তা বের হয় মাথার মাধ্যমে। বড়দের চেয়ে শিশুদের শরীরে তাপ উৎপাদনক্ষমতা কম। এ কারণে তাপ বের হয়ে গেলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মাথায় টুপি ব্যবহার করতে হবে। যাদের চুল নেই, গোসলের পর প্রথমে মাথা মুছে টুপি পরিয়ে দিন। এতে শিশুর মাথা ঠান্ডা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’