শীতে চুল পড়া রোধ করবেন যেভাবে

মানুষ এর সৌন্দর্যের সবচেয়ে আকর্ষনীয় অংশ হচ্ছে চুল।কিন্তু আমাদের এই প্রিয় চুলগুলো যখন পড়তে শুরু করে তখন আমাদের কষ্টের আর শেষ থাকে না। তবে চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সাধারণভাবেই প্রতিদিন কিছু না কিছু চুল ঝরে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন একশ’টা চুল পড়া স্বাভাবিক।তবে চুল পড়ার হার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয় তাহলে তা শঙ্কার কথা।

আবহাওয়া হঠাৎ শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় মাথায় খুশকি হয়। শীতের শুরুতে চুল পড়া এবং মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। আবহাওয়ার পরিবর্তন মানিয়ে নিতেও সময় নেয় চুল। ফলে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে। জেনে নিন চুল পড়া রোখার কিছু ঘরোয়া টোটকা।

*অ্যালোভেরা- চুল পড়া রোধে অব্যর্থ অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরা জেল কিনতে পাওয়া যায়। বাড়িকে কয়েকটা ঘৃতকুমারীর পাতা থেঁতো করেও জেল বানিয়ে নিতে পারেন। এই জেল মাথায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন সকালে অ্যালোভেরার রস খেলেও উপকার পাবেন।

*ডিম- ডিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও সালফার রয়েছে। ঘন চুলের জন্য নিয়মিত প্রোটিনের প্রয়োজন। একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মেশান। এই মিশ্রণ সারা মাথায় লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।

*অ্যাভোকাডো- একটা অ্যাভোকাডো ও একটা পাকা কলা চটকে নিন। এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। ভাল করে শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে নিন। কোনও ভাল কন্ডিশনার লাগিয়ে নেবেন।

*আমলকী- আমলকীতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ ও সি থাকে। যা চুলের পুষ্টিকর খাদ্য। আমলকী গুঁড়ো দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। কিনে পানি দিয়ে গুলে পেস্ট বানিয়ে মাথায় মাখতে পারেন। অথবা কাঁচা আমলকী সরাসরিও চুলে লাগাতে পারেন। রোজ সকালে আমলকীর রস খেলেও উপকার পাবেন।

*মেথি- দুই থেকে তিন টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে খুশকিও কমে যাবে।

*হেনা- বহু যুগ ধরেই চুলের যতœ নিয়ে আসছে হেনা। চুলের গোড়া শক্ত করে হেনা চুল পড়া রোখে। হেনা পাতা বেটে বা হেনা পাতা গুঁড়ো জলে গুলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা চুলে লাগিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের স্বাস্থ্যও ভাল হবে।

*নারকেল তেল- দুর্বল চুলের ভেঙে যাওয়া রুখতে নারকেল তেল খুব ভাল। মাথায় হট অয়েল মাসাজ করে সারা রাত রাখুন। সকালে শ্যাম্পু করে নিন।

*গ্রিন টি- প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে গ্রিন টি খুব ভাল কন্ডিশনার। এক কাপ পানিতে গ্রিন টি ভিজিয়ে রাখুন। ঠান্ডা হলে এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। চুল নরম, ঘন হবে। পড়াও কমবে।

*স্কার্ফ ব্যবহার করুন- এই মৌসুমে ধুলাবালি এবং রোদ থেকে বাঁচতে চুল ঢেকে রাখার পরাশর্ম বিশেষজ্ঞদের। কুয়াশাও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাইরে গেলে চুল ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন।

 

এছাড়া-
*ঘণ চিরুনি দিয়ে ভিজা চুল মসৃণ করা বা আচঁড়ানো উচিত নয়: এ সময় চুলের গোড়া খুব দুর্বল থাকে। সেজন্য চুল পরিস্কারের পর ভাল ভাবে না শুকানো পর্যন্ত চুল আচঁড়ানো বা চুল শুকাতে কাপড় দিয়ে দ্রুত ও জোরে জোরে ঘর্ষণ করবেন না, এটা আপনার চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। পরিস্কার শুকনো কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চুল বেঁধে রাখুন, কিছুক্ষণ পর খোলা বাতাসে চুল শুকিয়ে নিতে পারেন। এটা আপনার চুল পড়ার পরিমানা কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

*হালকা গরম তেল ব্যবহার: যে কোন প্রাকৃতিক তেল যেমন-জলপাই, নারিকেল তেল, কেনোলা তেল (বীজ জাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি) হালকা গরম করে নিন। এরপর তেলের সঙ্গে হালকা পানি মিশিয়ে তালুতে ধীরে ধীরে মেসেজ করুন। একঘণ্টা মাথায় রেখে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। অনেকেই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। কিন্তু হেয়ার ড্রায়ার চুলের ভীষণ ক্ষতি করে। চুল বাঁধার অভ্যাস কমিয়ে আনুন। কেননা বেঁধে রাখা চুলের পড়ের যাবার সম্ভাবনা বেশি।

*অতিরিক্ত চা বা কফি পান করবেন না : চা বা কফিতে ক্যাফেইন থাকে যা সকল প্রকার চুল ও স্কিনের সমস্যার জন্য দায়ী, তাই মাত্রাতিরিক্ত চা, কফি পান করবেন না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় শরীরে আয়রনের অভাবে চুল পড়ে। যদি তাই হয়, তাহলে প্রচুর পরিমাণে লাল শাক, কচুশাক খেতে হবে। চুল পড়া রোধে রসুনের রস, পেয়াজ বা আদার রস মাথার তালুতে মাখুন। রাত্রে তা মাথায় দিয়ে ঘুমিয়ে থাকুন। সকালে ভালভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন।প্রতিদিন ২ থেকে ৩ মিনিট মাথার তালু মেসেজ করলে তা চুলের ফলিকল সক্রিয় রাখে। এর সঙ্গে ল্যাভেন্ডার বা বাদাম জাতীয় তেল মেখে মাথায় দিলে তালুর ফলিকলের সক্রিয়তা বাড়ে। পর্যাপ্ত ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন, কেননা ঘুম ও বিশ্রাম নতুন চুল গজানো ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে।

2018-01-15T11:01:00+00:00January 15th, 2018|স্বাস্থ্য|
Advertisment ad adsense adlogger