ক্যান্সার প্রতিরোধে খাবেন লাল পেঁয়াজ

বাজারে অনেক রকম পেঁয়াজ পাওয়া যায়।লাল-সাদা এমনকি হালকা হলুদ রঙের পেঁয়াজও দেখা যায়। এর মধ্যে কোনটি ভালো? একেকটার একেক গুন। সাদা পেঁয়াজ বেশি ব্যবহার হয় মেক্সিকোতে। লাল ও হলদেটে পেঁয়াজের ব্যবহার ভারতীয় উপমহাদেশে বেশি। সাদা পেঁয়াজের খোসা লাল পেঁয়াজের চেয়ে একটু বেশি পাতলা। পুষ্টিমান বিবেচনায় ধরলে দুটি প্রায় কাছাকাছি। শত শত বছর পূর্বে মিশরীয় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাংগাস জনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করতেন পেঁয়াজ। সম্প্রতি ইতালিয়ান এবং সুইডিশ ক্যানসার গবেষকরা এক গবেষণায় দেখেন, ইন্ডিয়ান জাতের লাল পেঁয়াজ নিয়মিত খেলে খাদ্যনালী, কোলন, স্তন, ওভারি এবং কিডনি ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। পেঁয়াজের খাদ্যগুণ একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করা জাতীয় পদার্থ, ০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও ০.৭ শতাংশ লোহা থাকে। এছাড়া পেঁয়াজে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। কোলেস্টেরল কমায় পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে কোয়ারসেটিন আছে যা পেয়াজের বাইরের হালকা বেগুনী ত্বকে থাকে। কোয়ারসেটিন রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়, রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে এবং এভাবে ক্যান্সার সেল প্রতিহত করতে সাহায্য করে। শরীর রাখে বিষমুক্ত পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক সালফার থাকে যেটা মানুষের শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ধাতু যেমন সীসা, ক্যাডমিয়াম এবং আর্সেনিক বের করে দেয় এবং পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন সি শরীরকে করে বিশুদ্ধ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় সাদা কিংবা হলুদ পেঁয়াজের চেয়ে লাল পেয়াজ অনেক বেশী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটা হজমে সহায়তা করে। সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ রাখে মানুষের শরীরে ক্যান্সার বৃদ্ধিতে দুর্বল গ্লুকোজ ব্যবস্থা অনেকাংশে দায়ী। পেঁয়াজে থাকা স্বল্পমাত্রার গ্লাইকেমিক ইনডেক্স মানুষের রক্তের গ্লুকোজ বাড়াতে সাহায্য করে। লাল পেঁয়াজের বিভিন্ন গুণগুলো নেয়ার জন্য পেঁয়াজ সম্পূর্ণভাবে ছিলবেন না, এবং রান্না করলে অল্প আঁচে রান্না করবেন। আর কাঁচা পেঁয়াজ খেলে খাওয়ার একটু আগেই পেঁয়াজ কেটে রাখবেন, বেশিক্ষণ আগে কাটলে খাদ্য উপাদানগুলো বাষ্পীভূত হয়ে চলে যায়।

 

2018-01-19T09:45:27+00:00January 19th, 2018|স্বাস্থ্য|
Advertisment ad adsense adlogger