চুম্বনে আয়ু বৃদ্ধি পায়

চুম্বন মানুষের ব্যক্তি অনুভূতি প্রকাশের এক অসাধারণ মাধ্যম। এটি একে অপরের প্রতি ভালবাসার ভাগাভাগি আর আকর্ষণ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার আর আপনার প্রিয়জনের মধ্যে একটি সত্যিকারের অর্থপূর্ণ চুম্বনই হতে পারে হৃদ্যতা সৃষ্টির প্রকৃত সহায়তাকারী। এটি যেমন আপনার মধ্যে সৃষ্টি করতে পারে আত্মবিশ্বাস, তেমনি পারে আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করতে। আর বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, একটি চুম্বন আপনার শরীর থেকে ক্ষতিকারক সেরোটোনিন ও অক্সিটোসিন পেপ্টাইড দূর করে চুম্বনের কিছু শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা রয়েছে। এসব উপকারিতা তুলে ধরা হলো এ লেখায় ১ ক্যালরি ক্ষয়-আপনি যদি মনে করেন, শুধু জিম করা বা দৌড়ানোর মাধ্যমে দ্রুত শরীরের কিছু ক্যালরি ক্ষয় করা যাবে, তাহলে আপনি ভুল করছেন। কারণ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, চুমু খাওয়া হলে প্রতি মিনিটে মাত্রাভেদে এক থেকে দুই ক্যালরি ক্ষয় হয়। এ কারণে আপনি যদি দৈনন্দিন ফিটনেসের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রাখেন চুমুকে তাহলে তা খুবই কার্যকর হবে। ২ মানসিক প্রশান্তি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসালভেনিয়ার ‘লাফাইয়েত কলেজ’য়ের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, চুম্বনের সময় শরীরে ‘অক্সিটোসিন’, ‘ডোপামিন’ এবং ‘এন্ডোরফিনস’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। যা মন মেজাজ শান্ত করে, দেয় ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার অনুভূতি। মাত্র ২০ সেকেন্ডের চুম্বনই এই হরমোনগুলো নিঃসরণের জন্য যথেষ্ট। ৩ অ্যালার্জির সম্ভাবনা কমায় চুম্বনে অ্যালার্জির সম্ভাবনা কমায়। বিশেষ করে মৌসুমী অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে চুম্বনের ফলে। জাপানি এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে ৪ দাঁতের ক্ষয়রোধ অনেকেরই চুমু খাওয়ার আগে মুখ ও দাঁতের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস আছে। কিন্তু আপনি কি জানেন চুমুও দাঁত ও মুখের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো। চুমু স্যালভিয়া নিঃস্বরণ বাড়ায়। এটি অ্যাসিডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, খাবারের কণাগুলো সরিয়ে দেয় এবং দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। ৫ হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভাল করে এক গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৪৫ ভাগ হৃৎপিণ্ড রোগ কমার পেছনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে চুম্বন। মানসিক চাপ কমাতে কমপক্ষে মাসে একবার চুম্বন করা উচিত। নিয়মিত চুম্বন কার্ডিয়াক ওষুধ এসপিরিন, লোডডোজ ও ক্লপিডুগরাল থেকে আপনাকে দূরে রাখবে। এছাড়া যারা নিয়মিত চুমু খান তাদের ইনসোমনিয়ার সমস্যা হয় না। অন্যদের তুলনায় তারা মানসিক ভাবে স্থির প্রকৃতির হয়। চুম্বনের ফলে দেহে অক্সিটোসিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যা দেহকে প্রশান্তরাখতে সহায়তা করেগবেষণায় জানা গেছে যে অনেকেই যৌনতার চাইতে চুম্বনকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তাদের মতে চুম্বনে বেশি ভালোবাসা প্রকাশ পায়।গবেষকদের মতে যারা নিয়মিত চুম্বন করেন, এসব যুগল অন্যদের তুলনায় বেশি দীর্ঘ ও সুস্থ্ জীবন যাপন করে। নিয়মিত চুম্বনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক আরো মজবুত হয়। চুম্বনের সময় শরীর সুখানুভূতির হরমোন তৈরি করে। ফলে তারা বেশি প্রশান্তিতে থাকে এবং যে কোনো লক্ষ্য সহজেই অর্জন করতে পারে। চুম্বন করলে মেজাজ ফুরফুরে থাকে। প্রতিদিন সকালে মাত্র ২ মিনিট চুম্বন করলে সারা দিন আপনার মন-মেজাজ উত্ফুল্ল থাকবে। সব শেষে বলা যায় নিয়মিত চুম্বন আপনার আয়ু বৃদ্ধি করতে যথেষ্ট।

 

2018-01-20T08:30:21+00:00January 20th, 2018|স্বাস্থ্য|