নারীর মূত্রনালীর দৈর্ঘ্য ছোট এবং যোনিপথ, মূত্রপথ ও মলদ্বার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পুরুষের তুলনায় নারীরা এই সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আনুমানিক ৬০ শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশার কোন না কোন সময় এই মূত্রথলি বা নালীর সংক্রমণের শিকার হন এবং ২৫ শতাংশ নারীদের ক্ষেত্রে ছয় মাসের মধ্যেই পুনরায় এই সংক্রমণে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মূত্রথলি ও নালীর এই সংক্রমণকে মেডিক্যালের পরিভাষায় টৎরহধৎু ঞৎধপঃ ওহভবপঃরড়হ বা সংক্ষেপে ইউটিআই বলা হয়।উপসর্গ/লক্ষণ(ক) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (খ) প্রস্রাবের সময় মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া হওয়া (গ) তলপেটে ব্যথা অনুভূত হওয়া (ঘ) প্রস্রাবে দুর্গন্ধ ও প্রস্রাব ঘোলাটে হওয়া (চ) জ্বর হওয়া (সাধারণত কেঁপে কেঁপে জ্বর আসা); (ছ) প্রস্রাব করার পর আবার প্রস্রাব হবে এমন অনুভূতি হওয়া। থলি ও নালীর সংক্রমণ রোধে কিছু পরামর্শ* পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা * পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা* দৈহিক মিলনের আগে ও পরে প্রস্রাব করা * প্রস্রাবের বেগ চেপে না রাখা * প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর পরিষ্কার পানি দিয়ে সামনে থেকে পেছনের দিকে শৌচ করা * জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে স্পারমিসাইড (ফোম, জেল) অথবা ডায়াফ্রাম ব্যবহার পরিহার করা* সিনথেটিক কাপড়ের পরিবর্তে ঢিলেঢালা সূতি কাপড় ব্যবহার করা* মাসিকের সময় কাপড়ের পরিবর্তে উন্নতমানের পরিষ্কার ন্যাপকিন ব্যবহার করা এছাড়া বর্তমানে মূত্রথলি ও মূত্রনালীর সংক্রমণ রোধে ক্র্যানবেরির ব্যবহার বিশ্বে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে যা আমাদের দেশে এখনও অনেকেরই অজানা। ক্র্যানবেরিতে বিদ্যমান প্রত্রন্থোসায়ানিডিন্স ও ফেনলিক উপাদানের মিশ্রণ ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মূত্রথলি ও মূত্রনালীর দেয়ালের গায়ে আটকে থাকতে দেয় না ফলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া স্বাভাবিক নিয়মে প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়।