হিমেল হাওয়ার দিনে স্থবিরতাই যদি হয় প্রকৃতির নিয়তি, তবু শৈশবের প্রাণচাঞ্চল্যে বিরতি দেওয়ার সময় কি আর হয়? শিশু শিখছে, দেখছে নতুন কিছু, ছুটছে অজানার পিছু পিছু। চাঞ্চল্যেই ব্যস্ততা ওদের। ব্যস্ততা স্কুলের, টিফিনের বিরতিতেও চলছে মজার কোনো খেলা। শীত আসছে। তবু হুটোপুটি নেই থেমে।
শীতের সময়ে শিশুর আরামের জন্য শীতপোশাক পরিয়ে দিলেই কিন্তু আপনার দায়িত্ব শেষ নয়। খেয়াল রাখতে হবে আরও অনেক ব্যাপার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেলা আখতার বলেন, হালকা শীতে শিশুকে সুতির ভারী পোশাক পরানো যেতে পারে। অতিরিক্ত শীতে শিশুকে উলের পোশাক পরালেও ভেতরে সুতি কাপড়ের পোশাক পরিয়ে নিতে হবে। সরাসরি উলের পোশাক পরানো হলে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে।

হালকা শীতে পরবার উপযোগী পোশাকও আছে শিশুদের জন্যশিশুর শীতপোশাকের ব্যাপারে সোহেলা আখতারের আরও পরামর্শ—
শীতে শিশুকে গরম কাপড় পরালেও খেয়াল রাখতে হবে, অতিরিক্ত গরম কাপড় পরানোর জন্য শিশুর শরীর ঘেমে যাচ্ছে কি না। দীর্ঘসময় ঘেমে থাকলে শিশুর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
ফ্ল্যানেলের কাপড় দিয়ে পোশাক বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে শিশুকে। সুতি ও ফ্ল্যানেলের কাপড় শিশুর কোমল ত্বকে তেমন কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলে না।
কোনো কোনো কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে। এ ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। কোনো বিশেষ কাপড়ের পোশাক পরালে যদি শিশুর গায়ে লালচে দাগ বা চুলকানি হয়, তাহলে সেই কাপড়ে তৈরি করা কোনো পোশাকই শিশুকে পরানো যাবে না।
শীতের সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুকে কানঢাকা টুপি পরানো ভালো। রোদ উঠলে বা গরম লাগলে শীতের পোশাক খুলে রাখতে হয়, এটি শিশুকে শিখিয়ে দিতে হবে। একেবারে ছোট শিশুদের এ ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকার গুলশান আরা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা শারমিন বলেন, ‘টিফিনের সময়টাতে বাচ্চারা খেলাধুলা করে। এ সময় গরম লাগলেও অনেক শিশুই শীতের পোশাক খুলে রাখে না। আমরা ওদের আলাদা খেয়াল রাখি। ওদের প্রয়োজনমতো সাহায্যও করি।’
কোনো কোনো শিশু শীত লাগে না বলে শীতের পোশাক পরতেই চায় না! মা-বাবার কথা না শুনে সাধারণ পোশাকেই স্কুলে চলে আসে কেউ কেউ। এসব শিশুকে শীতের পোশাক পরে স্কুলে আসতে বলার কাজটিও করেন তাঁরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেল শিশুদের জন্য বাহারি শীতপোশাক। মিকি মাউস, গুফিসহ নানা কার্টুন চরিত্রের ছবি আঁকা পোশাক রয়েছে। খরগোশ, জিরাফ আর নানা রকম প্রাণীর মজার মজার ছবি আঁকা পোশাকও পাবেন ওদের জন্য। পুতুল বসানো ভিন্নধর্মী কিছু পোশাকও মিলবে।
বৈচিত্র্যময় নকশায় পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের শীতপোশাক।
.ক্যাটস আই-এর পরিচালক ও ডিজাইন বিভাগের প্রধান সাদিক কুদ্দুস জানালেন, ছোট্ট মেয়েদের জন্য সূক্ষ্ম উলের সুতা দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের কোটি পাওয়া যাচ্ছে। এসব কোটি টপ-জিন্সের সঙ্গে যেমন মানাবে, তেমনি কামিজের সঙ্গেও দেখাবে দারুণ। কার্ডিগান আর জ্যাকেটও পাওয়া যাচ্ছে ক্যাটস আই কিডসে। এ ছাড়া রয়েছে লং পুলওভার, রোল নেক বা গাউনের ধাঁচে তৈরি সোয়েটার। ছোট ছেলেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শীতপোশাকের মধ্যে ডেনিমের জ্যাকেটগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ছেলেদের জন্য পাবেন সোয়েটার, জ্যাকেট আর ফুলহাতা শার্ট। জিনসসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী কাপড়ের প্যান্ট রয়েছে বাজারে। ক্যাজুয়াল ব্লেজারও কিনে দিতে পারেন ছোট্ট ছেলেটিকে।
মেয়েদের জন্যও রয়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট আর ভারী কাপড়ের প্যান্ট। সোয়েটারের বুননে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে পুঁতি ও লেসের ব্যবহার। হুডিযুক্ত পোশাক রয়েছে ছেলেমেয়ে সবার জন্যই।
সাদা ও রঙিন দুই ধরনেরই মোজা পাবেন শিশুদের জন্য। একই ডিজাইনের টুপি আর মাফলারের সেট কিনতে পারেন আপনার শিশুকে। মাফলার আর টুপি আলাদাভাবে পরতে না চাইলে শিশুকে কানঢাকা টুপি কিনে দিতে পারেন।
ইনফিনিটি মেগা মল, ইয়েলো, ক্যাটস আই কিডস, স্মার্টেক্স, কিডস ক্লাব, ওয়েস্টেক্সের শো-রুমে রয়েছে দারুণ সব পোশাক। গুলশানের বেবি শপ আর স্টাইলসেলেও খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। কিডস অ্যান্ড মমসের বিভিন্ন শাখায় মিলবে শিশুর শীতপোশাক। এ ছাড়া পাবেন নিউমার্কেটে। নানা ধরনের এসব পোশাকের দাম পড়বে ২০০ থেকে ৩৫০০ টাকা।