হাইপারটেনশন শুরু হতে পারে যৌবনেই

উচ্চ রক্তচাপ হাইপারটেনশন হিসেবে পরিচিত একটি গুরুতর হৃদযন্ত্র ও রক্তপ্রবাহ সংক্রান্ত সমস্যা। যদি আপনার রক্তচাপ অনেক উঁচুতে থাকে তাহলে হার্ট অ্যাটাক ও মৃত্যুর কারণও হতে পারে। শোনা যায়, হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হয় বয়স্করা। কিন্তু আপনার উচ্চ রক্তচাপ আছে কি-না তা কখন থেকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত?

উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপারটি সাধারণ হলেও এটি মোটেও  ভালো নয়। আপনার হাইপারটেনশন রয়েছে তার অর্থ এই যে আপনার ধমনীতে রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এটি পরিমাপ করা হয় আপনার ধমনী প্রাচীরের বিরুদ্ধে রক্ত কোষের গতি কেমন তা দিয়ে।

মূলত, যখন আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকে, রক্তের কোষগুলি আপনার শরীরের মধ্য দিয়ে যেতে আরো বেশি চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে, রক্তের চাপ প্রয়োগের ফলে ধমনী প্রাচীর (যার মাধ্যমে রক্ত অতিক্রম করে) পুরু হয়ে যায়। ফলে হৃদযন্ত্র এর স্বাভাবিক কাজে বাধাপ্রাপ্ত হয়। আর চূড়ান্তভাবে বাধাপ্রাপ্ত হলে তখন একে হার্ট অ্যাটাক বলে। হার্ট অ্যাটাক সবসময় মারাত্মক নয়, তবে সঠিক সময় সঠিকভাবে চিকিৎসা না হলে তা মারাত্মক হয়।

উচ্চ রক্তচাপ শুরু হতে পারে ২০ বছর বয়স থেকে। তবে ঝুঁকি বাড়ে বয়সের সাথে সাথে।

উচ্চ রক্তচাপ শুধুমাত্র বয়স্কদের আক্রান্ত করে- এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, এর জন্য দায়ী অভ্যাসগুলো যদি আপনার যৌবনে শুরু হয় তবে আপনার হাইপারটেনশনও শুরু হতে পারে যৌবনে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২৪ থেকে ৩২ বছর বয়সীদের ১৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক তরুণের মধ্যে হাইপারটেনশন রয়েছে। এটি তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের উপস্থিতি যতটা ধারণা করা হচ্ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি।

বিষয়টি এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয় যে বেশিরভাগ রোগ যৌবনেই দেখা দেয়। এ সময় অনেকেই হৃদরোগের জটিলতায় উদ্বিগ্ন। এটিকে মোটেও উপেক্ষা করা উচিত নয়। অল্প বয়সে অনেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলে, যা যৌবনকালে তাদেরকে স্থূলতার দিকে পরিচালিত করে এবং উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।

যৌবনে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও ব্যায়ামের অভ্যাস আপনার রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে পারে।

হাইপারটেনশন জেনেটিকও হতে পারে। তবে যাই হোক, উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে সর্বোত্তম উপায় হলো অল্প বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং প্রতিদিন ব্যায়াম করা। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্রের সংকোচন প্রসারণ বেশি হয়। মনে রাখতে হবে, হৃদযন্ত্র একটি পেশি এবং যতটা সম্ভব একে শক্তিশালী ও কার্যকরী হতে হবে।

প্রচুর পরিমাণে ফল ও সবজি গ্রহণও হাইপারটেনশন এড়ানোর আরেকটি চমৎকার উপায়। লবণাক্ত খাবারগুলিতে সোডিয়াম থাকে, যা আপনার রক্ত ফিল্টার করার ক্ষমতাকে আক্রান্ত করে। এতে রক্ত কোষ পানি ধরে রাখে এবং ধমনীর ভেতর দিয়ে চলাচলে রক্তের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিষয়টি উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের দিকে যায়।

সুতরাং, অল্প বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, আপনি যৌবনে পদার্পণ করেছেন এর অর্থ এই নয় যে আপনার সব ধরনের রোগের ঝুঁকির বাইরে।

2018-12-03T10:51:22+00:00December 3rd, 2018|স্বাস্থ্য|
Advertisment ad adsense adlogger