আফরিন সুলতানা,পাবনা চীফ অব ব্যুরো ॥ ভারতের ‘জীবনানন্দ দাশ গবেষণা কেন্দ্র’ প্রবর্তিত জীবনানন্দ পুরস্কারের জন্য কবি মজিদ মাহমুদের নাম ঘোষনা করা হয়েছে। কোলকাতার আকাদেমি মিলনায়তনে আগামী ১৯ শে জুন কবির হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।
এদিকে পহেলা বৈশাখে পাবনার ঈশ্বরদীতে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী ‘চরগড়গড়ি মঙ্গল উৎসব’ ও কবি মজিদ মাহমুদের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। বৈশাখী উৎসবের উন্মাদনা নিয়ে পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর থেকেই বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে খই-মুড়কি মুড়ি, মিঠাই-সন্দেশ সহযোগে নাচে-গানে, ঢোলের বাদ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। তিনদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। মঙ্গল শোভাযাত্রার পর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা এবং দিনব্যাপী জমজমাট দেশজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনদিন ব্যাপী ঈশ্বরদীর এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত থাকবেন কবি নাসির আহমেদ ও কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারসহ দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ।
এই অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে কোলকাতার ‘জীবনানন্দ দাশ গবেষণা কেন্দ্র’ থেকে সেলফোনে কবি মজিদ মাহমুদকে এই সংবাদ জানিয়েছেন দায়িত্বশীল একটি সূত্র । পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় কবির পাশেই উপবিষ্ট ছিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা । তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কবি নূরুল হুদা বলেন, ‘কবি মজিদ মাহমুদের এই পুরস্কার প্রাপ্তি বাংলাদেশের কবিতার জন্য সুসংবাদ। বাংলাদেশের কবিদের পক্ষ থেকে কবি মজিদ মাহমুদকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।’
এবারই প্রথম ‘চরগড়গড়ি মঙ্গল উৎসব’ পালিত হচ্ছে। প্রতি বৈশাখে এ উৎসব পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পাবনা সাংস্কৃতিক পরিষদ, ঢাকা রাইটার্স ক্লাব, বৌটুবানী পাঠশালা ও ওসাকা আয়োজিত উৎসবে রয়েছে কথা, কবিতা, গান, লাঠি খেলাসহ বাঙালির বিভিন্ন ঐতিহ্য-আয়োজন। এ ছাড়া ১৬ এপ্রিল কবি মজিদ মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষে থাকছে তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান।
মননশীল পাঠকের কাছে মজিদ মাহমুদ একটি সুপরিচিত নাম। তাঁর গদ্য এবং পদ্য উভয় বাংলার সাহিত্য প্রেমীদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। ১৯৬৬ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার প্রথম বই ‘বৌটুবানী ফুলের দেশে’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। পরের বছর প্রকাশিত হয় গল্পগ্রন্থ ‘মাকড়সা ও রজনীগন্ধা’ (১৯৮৬)। ১৯৮৯ সালে প্রথম কবিতার বই ‘মাহফুজামঙ্গল’ প্রকাশের পর তিনি পাঠকের দৃষ্টি কাড়েন। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ছাড়াও মননশীল প্রবন্ধ ও গবেষণাকর্মে খ্যাতি রয়েছে মজিদ মাহমুদের। নজরুল ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীনে কাজ করেছেন তিনি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল— মাহফুজামঙ্গল (১৯৮৯), গোষ্ঠের দিকে (১৯৯৭), দেওয়ান-ই-মজিদ (২০১১), সিংহ ও গর্দভের কবিতা (২০১৩), কাঁটাচামচ নির্বাচিত কবিতা (২০০৯), গ্রামকুট (২০১৫), ভালোবাসা পরভাষা (২০১৫), কবিতামালা (২০১৫), কবীরের শতদোঁহা ও রবীন্দ্রনাথ (২০১৬)। গবেষণা ও প্রবন্ধগ্রন্থ : নজরুল তৃতীয় বিশ্বের মুখপাত্র (১৯৯৭), কেন কবি কেন কবি নয় (২০০৩), নজরুলের মানুষধর্ম (২০০৩), ভাষার আধিপত্য ও বিবিধ প্রবন্ধ (২০০৩), উত্তর-উপনিবেশ সাহিত্য ও অন্যান্য (২০০৮), রবীন্দ্রনাথ ও ভারতবর্ষ (২০১২), নির্বাচিত প্রবন্ধ (২০১৪), ক্ষণচিন্তা (২০১৬)। সম্পাদনা : বৃক্ষ ভালোবাসার কবিতা (২০০০), জামরুল হাসান বেগ স্মারকগ্রন্থ (২০০৩), বাংলা লিটারেচার ও সাহিত্য চিন্তার কাগজ ‘পর্ব’।