কুষ্টিয়া নিউজ : বঙ্গবন্ধুর ডাকে একাত্তরের রণাঙ্গনে যারা অস্ত্রহাতে নিয়ে পাকসেনাদের পরাজিত করেছিলেন। যাদের রক্ত ও আত্মদানের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়, সেইসব বীর সেনাদের কেউ কেউ স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হতে চললেও আজো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি।
পাননি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। এমনই একজন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের নতুন ঝাউদিয়া গ্রামের মোহা. শাহাবুদ্দিন। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের সনদপত্র ও যুদ্ধের সময় তার ব্যবহৃত অস্ত্র জমা দেয়ার সনদপত্র থাকার পরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহা. শাহাবুদ্দিন জানান, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন রণক্ষেত্রে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দৌলতপুর উপজেলার ব্যাঙগাড়ি মাঠের সম্মুখযুদ্ধ। লেফট্যানেন্ট নুরুন্নবীর নেতৃত্বে পাকবাহিনীর বিপক্ষে তিনি ওই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। রক্তক্ষয়ী ওই যুদ্ধে আব্দুল মোমিন নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। আহত হন ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। অপরদিকে প্রায় দেড় শ জন পাকসেনা নিহত হয়। সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার ফলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানি স্বাক্ষরিত সনদপত্র দেয়া হয় তাকে। যার ক্রমিক নম্বর- ৫৬২৪, মিলিশিয়া নম্বর- ৭১৮৭। মুক্তিযুদ্ধে নিজের ব্যবহৃত অস্ত্র জমা দেয়ার সনদপত্রও রয়েছে তার কাছে। জমা দেয়া সেই রাইফেলের নম্বর- আর ৫৩৩৩। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ঘটনা বর্ণনাকালে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এই সনদপত্রসহ বর্তমান সরকারের দুজন মন্ত্রীর সুপারিশকৃত কাগজপত্র দেখান।

মোহা. শাহাবুদ্দিন আরো জানান, তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তর এবং সাবেক ও বর্তমান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। উপরন্ত এজন্য বিভিন্ন সময়ে তার অন্তত অর্ধলক্ষ টাকা গচ্চা গেছে।

দৌলতপুরের অবহেলিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহা. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও একই সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম সুপারিশও করেছিলেন। কিন্তু কী কারণে এখনো আমাকে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছেনা তা কিছুতেই বোধগম্য নয়।’

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন একাত্তরের এই বীর যোদ্ধা।

এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ডা. কামাল হোসেন দবির বলেন, ‘যেহেতু তার (শাহাবুদ্দিন) মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সার্টিফিকেট রয়েছে। সেহেতু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিৎ। এ জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখন দেখা যাক কতদূর কি হয়।’