প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ করুন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার দেশে প্রতিরক্ষা শিল্প এগিয়ে আসার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের সফরে আসা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সোমবার তিনি এই আহ্বান জানান। অন্যদিকে নেতানিয়াহু মোদিকে একজন ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এনডিটিভি। নেতানিয়াহু ছয় দিনের সফরে এখন ভারত সফর করছেন। সোমবার দু দেশের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাসহ নয়টি চুক্তি হয়েছে। এ দিন দু নেতার মধ্যে যে আলোচনা হয় তাতে মোদি ইঙ্গিত দেন, ভারতে প্রতিরক্ষাখাতে এখন সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) অবাধ সুযোগ রয়েছে। তিনি চান ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ফার্মগুলো সে সুযোগ কাজে লাগাক। গত বছর ইসরাইল সফরের সময় মোদি ভারতে প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনের জন্য ইসলরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। জবাবে নেতানিয়াহু মোদিকে সরকারী আনুষ্ঠানিকতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভারতে প্রতিরক্ষাখাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ মালিকানা সরকারের থাকে। বর্তমানে এফডিআইর ক্ষেত্রে একক কোন ব্র্যান্ডকে খুচরা ব্যবসার জন্য শতভাগ নিজস্ব মালিকানার সুযোগ সরকার দিয়েছে। যৌথ বিবৃতি দেয়ার সময় মোদি নেতানিয়াহুকে ‘আমার বন্ধু বিবি বলে’ তার ডাকনামে সম্বোধন করেন । নেতানিয়াহুও মোদিকে শুধু ‘নরেন্দ্র’ বলে ডেকে সে উষ্ণতার জবাব দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার ইসলরাইল সফরের কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, ‘গত বছর জুলাইয়ে ১২৫ কোটি ভারতীয়ের শুভেচ্ছা নিয়ে ইসরাইল যাই। বদলে সেখানকার মানুষের স্নেহ আর উষ্ণতা পেয়েছি বন্ধু বিবি-র সৌজন্যে।’ জবাবে বিবিও বলেন, ‘আমার বন্ধু নরেন্দ্র কখনও যদি যোগাসনের ক্লাস করাতে চান আমি ঠিক চলে আসব।’ সোমবার তিনি ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ১৫ বছর আগে এরিয়েল শ্যারন প্রথম ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেন। ভারতে গণতন্ত্রের ভিত্তি ও সহিষ্ণুতার ইতিহাসের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তার কথায়, ‘ভারতে বসবাসকারী ইহুদিদের কখনই অন্য দেশের মতো বিদ্বেষের শিকার হতে হয়নি। এটা সম্ভব হয়েছে এ দেশের সভ্যতা, সহিষ্ণুতা আর গণতন্ত্রের জন্যই।’ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এগুলোই মূল গুরুত্বের বিষয়। সহযোগিতা বাড়বে তেল ও গ্যাস, বিমান পরিবহণও চলচ্চিত্র ক্ষেত্রেও। ইন্ডিয়া-ইসরাইল বিজনেস সামিটে মোদি দু দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর জাতিসংঘে ভারতের বিপক্ষে ভোট দিলেও সেটি দু দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না বলে নেতানিয়াহু মনে করেন। তিনি বলেছেন, দু দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে। দু দেশের মধ্য বর্তমানে ২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়ে থাকে। ইসরাইল ভারতীয় তেল ও জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে ভূমধ্য সাগরের পূর্ব উপকূলে অনুসন্ধান চালানোর প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে।নেতানিয়াহু, তার স্ত্রী ও সঙ্গে আসা ১৩০ জনের প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার আগ্রার তাজমহল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুরো পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেড় হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া রাইসিনা সংলাপ শুরু হয়। আঞ্চলিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে এটি একটি বার্ষিক আয়োজন। ইসরাইল ও ভারত প্রতিষ্ঠার পর থেকে একে অন্যকে বিভিন্ন ইস্যুতে সহায়তা করে এসেছে। ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই সম্পর্ক আরও জোরদার হয়।

2018-01-17T09:50:38+00:00January 17th, 2018|আন্তর্জাতিক|
Advertisment ad adsense adlogger