যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থাকে দেয়া সাড়ে ছয় কোটি ডলার সহায়তা মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনকে অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকির দুই সপ্তাহ পর এই পদক্ষেপ নেয়া হলো। এএফপি।
জাতিসংঘের মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হতো। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা বলেছেন ফিলিস্তিনীদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য নয় বরং অন্যান্য দেশকে সহায়তা প্রদান ও ইউএনআরডব্লিউএ’র (ইউনাইটেড ন্যাশন্স রিলিফ এ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি) সংস্কারের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের সহায়তা করার জন্য ১৯৪৯ সালে সংস্থাটি গঠিত হয়েছিল। ফিলিস্তিনীদের সহায়তা বন্ধ করতে গিয়ে মানবিক ও কূটনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টির আশঙ্কার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ফলে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস বলেন, ‘ইউএনআরডব্লিউএকে নিয়ে এ সিদ্ধান্তে আমি উদ্বিগ্ন। আশা করি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউএনআরডব্লিউএ এর জন্য তহবিল সরবরাহ অব্যহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র এর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংস্থাটি ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে থাকে। সংস্থাটি দখলকৃত ভূখ- ছাড়াও জর্দান, সিরিয়া ও লেবাননে অবস্থানরত ফিলিস্তিন শরণার্থীদের সহায়তা দিয়ে আসছে। এই সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সহায়তা বন্ধের ফলে যে শুধু ফিলিস্তিনীদের জন্য গুরুতর মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি হবে তাই নয়। পাশাপাশি ইসরাইলেরও সমস্যা হবে। এই সহায়তাটি ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নয়ের্ট সাংবাদিকদের বনের, ‘কাউকে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আরও অনেক দেশে তাদের চেয়েও বেশি সহায়তা দরকার বলে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে।’ তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নে মার্কিন নীতিকে সমালোচনাকারী দেশগুলোকে ফিলিস্তিনীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রধান কর্মকর্তা পিয়েরে ক্রাহেনবুহল যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্যদের ফিলিস্তিনীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনী ভূখ-ে স্কুল ও হাসপাতালগুলো চালু রাখার জন্য তাদের এখন ৬ কোটি ডলার প্রয়োজন। কিন্তু তাদের তহবিলে অর্থের পরিমাণ দ্রুত কমে আসাছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ কোটি ডলার সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে।’ তিনি বলেন ইউএনআরডব্লিউএ বা যে কোন মানবিক সংস্থাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর জন্য একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজ। তিনি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুদীর্ঘ আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আকস্মিকভাবে পিঠটান দেয় তবে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিয়ে কাজ করা পুরনো এই সংস্থার তৎপরতা ব্যাহত হবে। বিভিন্ন দেশের কাছে ইউএনআরডব্লিউএর এখন ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাওনা আছে। এ মাসের ২ তারিখ ট্রাম্প ফিলিস্তিনীদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা বন্ধ করে দেন। তিনি এদিন টুইটারে লেখেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনীদের শত শত কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছি। বিনিময়ে কোন সম্মান বা স্বীকৃতি পাইনি। তারা ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। কেন আমরা তাদের জন্য লাখ লাখ ডলার খরচ করব।’ ট্রাম্পের এই টুইটের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ইউএনআরডব্লিউএ’র জন্য সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেন।