বেইজা ট্যাপিস্ট্রি ব্রিটেনকে ধার দিতে রাজি হয়েছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এখন কেবল ঘোষণা দেয়ার পালা। গেল সাড়ে নয় শ’ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো হাতে তৈরি এই শিল্পকর্ম ফ্রান্সের বাইরে যাচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন তথ্যই দিচ্ছে। ১০৬৬ সালে হ্যাসটিংসের যুদ্ধে নরমানরা ইংল্যান্ড বিজয় করেন। বেইজা ট্যাপিস্ট্রিতে সেই বিজয়ের কথা চিত্রিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে ইঙ্গ-ফরাসী সম্মেলন শুরু। এ উপলক্ষে ফ্রান্সের নরমানন্ডি থেকে শিল্পকর্মটি ব্রিটেনে আনা হবে। এর মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট পরবর্তী ফ্রান্স-ব্রিটেন জোরালো সম্পর্ককে সামনে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা। সম্মেলনে নিজ নিজ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বেইজা ট্যাপিস্ট্রি ৭০ মিটার লম্বা, উচ্চতা ৫০ সেন্টিমিটার। এগারো শতকের ওই যুদ্ধের পরপরই শিল্পকর্মটি তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকজন ঐতিহাসিকের দাবি, এটি ইংল্যান্ডের কেন্টে বসে তৈরি করা হয়। ম্যাক্রোঁর ঘোষণার পর সেই দাবি আরও জোরালো ভাবে তোলা হচ্ছে। সূচীকর্মটি ব্রিটেনে পাঁচ বছর রাখা যাবে না, তার আগেই ফেরত দিতে হবে। কোন ক্ষতি না করেই এটি নাড়ানো সম্ভব কি-না; সেটা নিশ্চিত করতে বেইজা জাদুঘর একটি পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এটি ব্রিটেনে নিয়ে আসার পর কোথায় প্রদর্শন করা হবে, তা এখনও জানা যায়নি। নয় শতাধিক বছর আগের নকশিকর্মটি ব্রিটেনে নিয়ে আসতে এর আগেও দুই দেশের আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেসব আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। বিশেষ করে ১৯৫৩ সালের ব্রিটেনের রানীর সিংহাসন আরোহণ ও ১৯৬৬ সালে হ্যাসটিংস যুদ্ধের নয় শ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে এটি ব্রিটেনে নিয়ে আসতে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছিল। ১৪৭৬ সালের এটাই প্রথম কোন লিখিত নথি। এতে ইংল্যান্ড বিজয়ের কাহিনী খোদিত আছে। সত্যিকথা হচ্ছে, নকশিকাঁথাটি খোদ ফ্রান্সের ভিতরেও খুব বেশি নাড়াচাড়া করা হয় না। ১৮০৩ সালে নেপোলিয়ান বোনাপার্ট প্যারিসে এটির একটি প্রদর্শনী করেছিলেন। ১৯৪৫ সালে প্যারিসের লুভর জাদুঘরে একবার দেখান হয়েছিল। এরপর নাৎসিরা এটি জব্দ করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার টেরেসা মে ফরাসী প্রেসিডেন্টকে স্যান্ডহার্স মিলিটারি একাডেমিতে স্বাগত জানাবেন। কাজেই ম্যাক্রোঁর ট্যাপিস্ট্রি ধার দেয়ার ঘোষণা টেরেসাকে প্রফুল্ল করে তোলারই কথা। ম্যাক্রোঁ ও টেরেসার বৈঠকে অভিবাসন সমস্যা, উত্তর আফ্রিকা দেশগুলো থেকে উদ্ভূত আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের মোকাবেলা নিয়ে আলোচনা করা হবে।