যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কোন্নয়ন ব্যর্থ

আগামীকাল ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর পূর্ণ করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই এক বছরে বিভিন্ন ইসু্যতে বিতর্ক সৃষ্টি ছাড়াও বহির্বিশ্বের সঙ্গে দূরত্ব ক্রমেই বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণাকালে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন করবেন। কিন্তু তার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরে রম্নশ-মর্কিন সম্পর্ক স্নায়ুযুদ্ধ সময়কালের মতোই তলানিতে রয়ে গেছে। সংবাদসূত্র : এএফপি অনলাইন, ডয়চে ভেলে, রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত জয়ের পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের তদন্ত্ম চলছে। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টও নিজ দেশের অভ্যন্ত্মরীণ রাজনীতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেস্নষকরা। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারভা বলেন, ‘রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরও ভালো হওয়া দরকার।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যে প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমরা সার্বিকভাবে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের পক্ষে।’ তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের প্রতিশ্রম্নতি সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। উলেস্নখ্য, পুতিনের সঙ্গে টিলারসনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে ইউক্রেন, সিরিয়া ও ইরান নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়াও গত বছর এই দুই দেশ পরস্পরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। ফলে সম্পর্ক উন্নয়নের বদলে এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার বিরম্নদ্ধে তোপ দাগলেন ট্রাম্প এদিকে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া ‘চোরাইপথে’ উত্তর কোরিয়াকে জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ করছে বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি অভিযাগ করেছেন। তবে নীতিগতভাবে তিনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়াতে মার্কিন প্রশাসন কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে এক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। চীন ও রাশিয়া তাতে অংশ নেয়নি। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি রাশিয়ার বিরম্নদ্ধে এই অভিযোগ আনলেন।
ট্রাম্পের মতে, রাশিয়া জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে উত্তর কোরিয়াকে সাহায্য করে চলেছে। সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়া মোটেই আমাদের সাহায্য করছে না। চীন সাহায্য করলেও রাশিয়া সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিচ্ছে।’
এর আগে পশ্চিম ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স গত ডিসেম্বর মাসে জানিয়েছিল, সম্প্রতি রাশিয়ার ট্যাংকার জাহাজ কমপক্ষে তিনবার উত্তর কোরিয়াকে জ্বালানি সরবরাহ করেছে। আন্ত্মর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সমুদ্রেই পণ্য হস্ত্মান্ত্মর করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে এমন পদক্ষেপ নিয়ে তার মনে সংশয় রয়েছে। তবে নীতিগতভাবে তিনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নয়। ট্রাম্পের মতে, তার পূর্বসূরিরাও এমন প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি সে কারণে বিল ক্লিনটন, জর্জ ডাবিস্নউ বুশ ও বারাক ওবামাকে সেই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন। ঠাট্টার সুরে তিনি বলেন, হয়তো তারা জানতেন, এমন দুরূহ কাজ এমন কারও জন্য রেখে দিতে হবে, যিনি বুদ্ধির পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফল করবেন। তবে, আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিককে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠতাকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার ফলে উত্তর কোরিয়া ক্ষতির মুখ দেখতে৬ শুরম্ন করেছে। রাশিয়া পুরোপুরি সহযোগিতা না করলেও সার্বিকভাবে কাজ হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত্ম উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে রাশিয়া চোরাইপথে উত্তর কোরিয়ায় জ্বালানি ছাড়াও অন্য কিছু পণ্য সরবরাহ করছে বলে টিলারসন অভিযোগ করেছেন।

 

2018-01-19T09:25:37+00:00January 19th, 2018|আন্তর্জাতিক|
Advertisment ad adsense adlogger