ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে তার দেশের একটা বোঝাপাড়া তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর (এলওসি) জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারতের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। নেতানিয়াহুর বক্তব্য এটাই বলে দিচ্ছে যে নিজেকে রক্ষার অধিকার ভারতের আছে। -খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার টাইমস নাউ টেলিভিশনকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সীমান্তে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত একতরফা ব্যবস্থা নিতে গেলে ইসরাইল তাতে সমর্থন দিবে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু বোঝাপড়া আছে। এর বাইরে কিছু করা উচিত হবে বলে আমি মনি করি না। ভারত-ইসরাইলের অংশীদারত্ব কোন নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমাদের শত্রু না, আমরাও পাকিস্তানের শত্রু না। ফিলিস্তিন সঙ্কট নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ইসরাইল কখনো নিজেকে একটা নির্ভুল দেশ হিসেবে দাবি করে না। সঙ্কট কিংবা সমস্যা ছাড়া পৃথিবীতে কোন দেশ আছে বলে আমি জানি না। কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিবেশীদের প্রতি আমরা হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। এটা দুর্ভাগ্য যে ফিলিস্তিনের কাছ থেকে আমরা যথাযথ সাড়া পাইনি। তিনি বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি তার সফরকে খুবই আবেগী ও সন্তোষজনক বলে আখ্যা দেন। ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কখনো অধিকাংশ আরব দেশকে শত্রু হিসেবে দেখছি না। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তারা ইসরাইলের অপরিহার্য মিত্র। ভারত-ইসরাইলের সম্পর্ককে তিনি গণতন্ত্র ও সভ্যতার অংশীদারত্ব বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গুজরাটে উৎকর্ষতার কেন্দ্রভূমিতে আমি ছিলাম। সেখানে ইসরাইলের কৃষি জ্ঞান ভারতের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পাঁচ কৃষক আমাকে বলেছে, ইসরাইলী রীতিতে চাষাবাদ করে তাদের আয় বেড়েছে। তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন। নেতানিয়াহুর ছয় দিনের ভারত সফর শুক্রবার শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পর ভারত সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করে ইসরাইল থেকে। এমনকি ইসরাইলের ড্রোনের প্রধান ক্রেতা বলা হয় ভারতকে। দেশটির কাছ থেকে ভারত দেড়শটি ইউএভি ড্রোনের বহর নিয়েছে। তাদের নৌপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরঞ্জামও সরবরাহ করবে ইসরাইলের কোম্পানি। ভারতের প্রথম যুদ্ধজাহাজটিও তৈরি করে দিচ্ছে ইসরাইল, যেটি এখন নির্মাণাধীন।