ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশের শহরে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়েছিল। নারী ও পুরুষ সবাই এতে অংশ নিলেও নারীদেরই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশি সোচ্চার থাকতে দেখা গেছে। ওই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যন্য দেশের বড় শহরগুলোতে লোকজনকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। গার্ডিয়ান।
ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস ও ফিলাডেলফিয়াসহ বাইরের বিভিন্ন দেশের শহরে এদিন লোকজন প্রতিবাদ মিছিল বের করে। অনেক নারীকেই উইমেনস মার্চে’র প্রতীক গোলাপি রঙের পুসি হ্যাট পড়তে দেখা গেছে। পুসি হ্যাট এখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘পুনর্জাগরণের’র প্রতীক হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসে বাজেট নিয়ে জটিলতার জেরে এদিন ওয়াশিংটনের ফেডারেল অফিসগুলো বন্ধ ছিল। লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সিঁড়ির ধাপগুলো হাতে তৈরি গোলাপি রঙের প্ল্যাকার্ড দিয়ে ছেয়ে যায়। ‘ইমপিচ’ শব্দের অক্ষরে বিন্যস্ত হয়ে একদল লোককে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। ওয়াশিংটন মনুমেন্টের কাছাকাছি ন্যাশনাল মলের দিকে র‌্যালি সম্প্রসারিত হয়। অনেক সাহসী প্রতিবাদকারী মলের ছাদে অবস্থিত সুইমিংপুলের জমে যাওয়া বরফের ওপর দাঁড়িয়ে র‌্যালি পর্যবেক্ষণ করে। সূর্যের আলোয় পুলের ওপর জমাটবাঁধা বরফ গলতে শুরু করার সময় তারা এর ওপর অবস্থান নেয়। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের মনোবল ছিল তুঙ্গে। অনেকে ঠা-ার মধ্যে গায়ে রোদ লাগাতে এসেছিলেন। প্রতিবাদকারীরা জানান, গত বছর উপনির্বাচনে আলাবামা ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে তারা অনুপ্রাণিত বোধ করছেন। এসব অর্জনকে তারা উদারপন্থীদের জয় হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, চলতি বছর কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন ছাড়াও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভার্জিনিয়ার স্কুল শিক্ষক লিজ ওয়াইডারহোল্ড বলছিলেন, আমি মনে করি এ বছর আরও বিক্ষোভ হবে। লিজ গত বছর ওয়াশিংটন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলছেন, ‘আপনি একটি প্রেসার কুকারের ভেতর যে চাপ অনুভব করবেন আপনার তার চেয়েও বেশি চাপের মধ্যে রয়েছি। একবছর ধরে তিনি (ট্রাম্প) ক্ষমতায় আছেন। যতদিন তিনি তার পদটি দখল করে রাখবেন ততদিনই আমরা চাপে থাকব। শনিবার ওয়াশিংটনের র‌্যালিতে প্রতিনিধি পরিষদে বিরোধী নেতা ন্যান্সি পেলোসি ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর কারস্টেন গিলিব্র্যান্ডকে বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে। তারা বলেন, নারীরা এখন রেকর্ড সংখ্যায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিক্ষোভ সংঘটিত করছেন। উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে কারস্টেন বলেন, প্রতিনিধি পরিষদে আপনারা নিজেদের জয় দেখতে চাইলে আপনারা সারাদেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করুন। সময় এখন আমাদের অনুকূলে। একে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। আয়োজকরা আশা করছেন চলতি বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনমত তৈরিতে র‌্যালি ভূমিকা পালন করবে।