সিরিয়ার কুর্দী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা অব্যাহত রেখেছে তুরস্ক। সিরীয় সীমান্তে কুর্দীদের রকেট হামলার জবাবে তুর্কী স্থলবাহিনী ও সাঁজোয়া যান সিরিয়ার ভিতরে ঢুকে পড়েছে। শনিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের আফরিন অঞ্চলে জঙ্গী সংগঠন পিপল’স প্রটেকশন ইউনিটসকে (ওয়াইপিজি) তাড়িয়ে দিতে অলিভ ব্রাঞ্চ বা ‘জলপাই শাখা’ নামে সেনা অভিযান শুরু করেছে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক।- খবর এএফপি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইনের আঙ্কারা সব সময় ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। সিরিয়ার ভেতরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে অন্তত উনিশ মাইল পর্যন্ত নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে তুরস্ক। এ অভিযানের ফলে তুরস্কের সঙ্গে দেশটির ন্যাটো মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইসলামিক এস্টেটের জিহাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ওয়াইপিজিকে সহায়তা দিচ্ছে। ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি করে বলেছে, ‘আঙ্কারা যুদ্ধকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে চাচ্ছে।’ তবে তুরস্কের এই অভিযানের ফলে সিরিয়ার প্রাণঘাতী যুদ্ধ নতুন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার তুরস্ককে সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট পরিসর ও সময়ের মধ্যে সীমিত রাখে। যে কোন ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়াতে কৌশল অবলম্বন করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, তাদের অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটন অগ্রিম সতর্কতা জারি করেছে। তবে তুরস্কের নিরাপত্তা উদ্বেগ ন্যায়সঙ্গত বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। দ্বিতীয় দিনের অভিযানে তুরস্কের ৩২টি বিমান ওয়াইপিজির গোলা বারুদের ভা-ার ও আশ্রয়কেন্দ্রসহ ১৫৩টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। আঙ্কারা-সমর্থিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (এফএসএ) পাশাপাশি তুরস্কের সেনাবাহিনী সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা তুরস্কের তিন মাইল ভেতরে ঢুকে পড়েছে। সিরিয়ার ভেতরে ঢুকে যেতে তুরস্কের ট্যাঙ্কার সীমান্তে অপেক্ষা করছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলেট চাভুশাটু বলেন, তারা ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রাম অতিক্রম করেছে। তবে ওয়াইপিজির মুখপাত্র দাবি করেন, তুরস্কের বাহিনী আফরিনে ঢুকতে চাইলে তাদের আটকে দেয়া হয়েছে এবং তারা তুরস্কের দুটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে দিয়েছে।