সংরক্ষণবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলন। উদ্বোধনী অধিবেশনের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বিশ্বায়ন এখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বায়নের নয়া পটভূমিতে ভারত এখন বিনিয়োগকারীদের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে মোদি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ এবং আত্মকেন্দ্রিকতা বেড়ে যাওয়া এই তিনটি এখন বিশ্বের জন্য বড় সমস্য। সংরক্ষণবাদ শেকড় গেড়ে বসছে অন্যদিকে বিশ্বয়ান নিজের আকর্ষণ হারাতে বসেছে। বিশ্বায়নকে পাশ কাটিয়ে সংরক্ষণবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। এর লক্ষ্য শুধু বিশ্বায়নের ধারা থেকে নিজেদের পৃথক রাখা নয় বরং বিশ্বায়নের স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ এখন একটি বড় সমস্যা। তবে আপনি যখন একে ভাল সন্ত্রাস ও খারাপ সন্ত্রাসে ভাগ করে দেখবেন তখন বিষয়টি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।’ এ ভাষণে তিনি ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বর্ণনা দেন। মোদির কথায় ভারত এমন নীতি অনুসরণ করে এটি অর্জন করেছে যে এর ফলে দেশটি এখন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। রফতানি প্রক্রিয়াও সহজ করেছে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে চাইলে ভারতে আসুন। সুস্থতার সঙ্গে কাজ করতে চাইলে ভারতে আসুন। শান্তি ও অগ্রগতি চাইলে ভারতে আসুন। ভারত আপনাকে স্বাগত জানাতে সব সময়ই প্রস্তুত।’ আত্মবিশ্বাসী মোদি বলেন, ‘ভারতের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭ সালে শেষবারের মতো ডাভোস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তখন ভারতে জিডিপি ছিল ৪শ’ বিলিয়ন ডলার। সেটি এতদিনে ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির আকার ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও বিকাশমান ভারত বিশ্বের জন্যও ভাল খবর। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১শ’য়ের ওপর শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা অংশ নেন। তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে তথ্য-উপাত্ত একটি সম্পদ। এটি একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমান যুগকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে প্রযুক্তি। এটি মানুষের জীবন ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করছে। রাজনীতিসহ এটি নানাভাবে আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে।’ বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারত ধীরে ধীরে দরজা উন্মুক্ত করছে জানিয়ে মোদি বলেন, ‘লাইসেন্স রাজ প্রথা (লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রিতা) বাতিল করা হয়েছে। আমরা লাল ফিতা খুলে দিয়ে লাল গালিচা পেতে দিচ্ছি।’ বৈদেশিক বাণিজ্য সহজ করার শুল্ক ও অন্যান্য বাধাও তুলে নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। ভারতের জনগণও এসব সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বলে মোদি উল্লেখ করেন। ২১ বছর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডাভোস সম্মেলনে যোগ দিলেন। সরকারী ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের বড় একটি প্রতিনিধি দল মোদির সফরসঙ্গী হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি মূলত এই বার্তাটিই দিতে চান যে ভারত এখন একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি। ৫২ মিনিটের ওই বক্তৃতায় মোদি বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জর কথা উল্লেখ করলেও এসবের জন্য তিনি সরাসরি কোন দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি এ সময় বিভিন্ন শ্লোক থেকে উদ্ধৃতি দেন। সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও তার এবারের ভাষণকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদের সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতবারের সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

 

2018-01-25T07:28:57+00:00January 25th, 2018|আন্তর্জাতিক|
Advertisment ad adsense adlogger