ভারত-আসিয়ান সংহতি

আসিয়ানের ১০ নেতাকে শুক্রবার ভারতের ৬৯তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান হয়। আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিল্লীতে এক বিশেষ সম্মেলন আয়োজন করেছে ভারত। চীনের প্রভাব রুখতে এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরাই ভারতের এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার দিল্লীতে আসিয়ানের ১০ রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিতিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। শহরের রাজপথে সামরিক শক্তির পাশাপাশি সংস্কৃতি এবং উন্নয়নের ছবি তুলে ধরা হলো। এ বছর প্রজাতন্ত্রের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসিয়ানভুক্ত ১০টি রাষ্ট্রের নেতারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিল্লীর ইন্ডিয়া গেটে স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারীদের শ্রদ্ধা জানান মোদি। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস। দেশবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘নানা ধর্ম, বর্ণ এবং সম্প্রদায় সত্ত্বেও সংবিধান মেনেই দেশের সব মানুষ একে অপরের সঙ্গে মৈত্রী এবং একতার বন্ধনে আবদ্ধ।’ সাধারণত প্রত্যেক বছর একজন করে রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়। তবে এবার ১০ জন রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানান হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস ও ব্রুনেইড়র রাষ্ট্রনেতারা শুক্রবার দিল্লীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন। প্যারেডে ওই ১০ দেশের পতাকাও বহন করা হয়। প্রচ- শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে নয়াদিল্লীর রাজপথ থেকে রেডফোর্ট পর্যন্ত আট কিলোমিটার জুড়ে দেড় ঘণ্টার কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী দেখতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। ১০ নেতার আগমণ কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে নেয়া ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য এতে অংশ নেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বিশেষ অতিথিদের সারির মাঝখানে বসেন। তাকে রাজ্যসভায় বিরোধী দলের নেতা ও কংগ্রেস দলের সিনিয়র নেতা গোলাম নবী আজাদের সঙ্গে খোশালাপ করতে দেখা যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরভিন্দ কেজরিওয়াল এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ১০ আসিয়ান নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বৃহস্পতিবার দিল্লীতে নেতৃবৃন্দ এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। এরা হলেনÑ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর আউং সান সুচি, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নগুয়েন জুয়ান ফুক, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনারেল প্রায়ুত চান ওচা, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং, ব্রুনেইর সুলতান হাসান আল বালকিয়া, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক, লাওসের প্রধানমন্ত্রী লংলুন সিসোলিথ ও ক্যাম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুনসেন। আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্থাপনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়াকে স্মরণীয় করে রাখতেই এটি আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে গবেষণা, মানবসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জোটের ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়। গত ২৫ বছরে আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে। ভারতসহ আসিয়ানের দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা ১৮৫ কোটি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশের বসবাস এই অঞ্চলে। এখানকার মোট জিডিপির পরিমাণ ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

2018-01-27T07:08:47+00:00January 27th, 2018|আন্তর্জাতিক|
Advertisment ad adsense adlogger