যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করতে পারে। চলতি বছর নবেম্বরে কংগ্রেসের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো এটিও পুরোপুরি রুশ হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। বিবিসি। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নির্বাচন ব্যবস্থা টার্গেট করে রাশিয়ার তৎপরতা আগের মতোই আছে। এটি কমার কোন লক্ষণ এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেছেন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল, মার্কিন গোয়েন্দা মহল এ বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত। পম্পেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশিরভাগ দিন সর্বশেষ গোয়েন্দা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করে থাকেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত নন, সম্প্রতি এ রকম একটি কথার গুঞ্জরণ শোনা যাচ্ছে। তবে পম্পেও একে ‘নির্বোধের মতো কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের অধীনে সিআইএ পরিচালক হিসেবে নিজের করণীয় সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন রয়েছেন পম্পেও। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা গোয়েন্দা সংস্থা। আমাদের কি করতে হবে সেটি আমরা জানি এবং আমেরিকার জনগণের পক্ষে সেই দায়িত্ব আমরা পালন করে যাব। এক বছর দায়িত্ব পালন শেষে পম্পেও বলেন, সিআইএকে ভারমুক্ত রাখতেই তিনি সব সময় চেষ্টা করেছেন।’ বর্তমান সময় গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে সিআইএর কাজের ধরণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এক সময় এই সংস্থাটিকে কাজ করতে হত কেবল সামরিক গোয়েন্দা সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এখন রাজনৈতিক প্রয়োজনেও তাদের মাঠে থাকতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিতর্কগুলো সমাধানে এখনও সিআইএকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সন্ত্রাস দমন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে সিআইএর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আছে উল্লেখ করে পম্পেও বলেন, গত বছর সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি হামলার ঝুঁকি নস্যাত করতে তার ভূমিকা রাখেন। এসব সত্ত্বেও রাশিয়ার আচরণ বৈরিতামূলক বলে তিনি মনে করেন। পম্পেও বলেন, ‘আমি মনে করি না আমাদের প্রতি রাশিয়ার বৈরি আচরণ একটুও কমেছে।’ এ বছর নবেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রাশিয়ার নাক গলানোর আশঙ্কা আছে কি না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে পম্পেও বলেন, ‘অবশ্যই, আমি আশঙ্কা করি তারা এতে হস্তক্ষেপের সব রকম চেষ্টাই করবে। তবে আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে পারব বলে আমি আশাবাদী’। তিনি জানিয়েছেন, রুশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা প্রতিরোধের জন্য সিআইএ এখন কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এটি সিআইএর মিশনের মধ্যে পড়ে না।