কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক নিষ্ফল আলোচনা কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বুধবার নিউইয়র্কে নাফটা আলোচনায় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সে অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পুরোপুরি সংক্ষণবাদ নীতি অনুসরণ করছে। এ কারণে তারা নাফটা নিয়ে পুনরায় সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্যকে ব্যবহার করতে চাইছে। খবর দ্য গ্লোব এ্যান্ড মেইল অনলাইনের। নাফটা নিয়ে শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী আলোচনার শেষদিনে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন বাণিজ্য নিয়ে একটি অবাস্তব আলোচনা করেছে। তারা শুধু নিজেরাই জিততে চায়। যুক্তরাষ্ট্র কখনই অদক্ষ কর্মীদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে পারবে না। যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কৌশল। ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি যিনি অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করছে ও বাণিজ্য চুক্তিতে একে হাতিয়ার বানাচ্ছে। তার রাজনৈতিক সম্পদ হচ্ছে অভিবাসীরা। নাফটা আলোচনায় কানাডা সার্বিকভাবে এর লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়েছে যে, আধুনিক, হালনাগাদ ও পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে বাণিজ্যের উপায়গুলো নিয়ে পথ খুঁজে নিতে হবে। মার্কিন প্রশাসন সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি এমন একটি প্রশাসন যা অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্টত সংরক্ষণবাদী। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সহজভাবে বাণিজ্যের সম্পর্ককে সঙ্কুচিত করা। ফ্রিল্যান্ডের মন্তব্য ট্রুডো সরকারের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিচালিত মতামতের এক সারসংক্ষেপ ছিল। কানাডীয় কোন কর্মকর্তার এত স্পষ্টভাবে মত প্রকাশ খুবই বিরল ঘটনা। সোমবারের নাফটা আলোচনায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সংরক্ষণবাদ নীতিকে অস্বাভাবিক প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নিয়ে সর্বশেষ আঘাতটি করেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে কানাডা ও মেক্সিকোতে তৈরি সব যানবাহনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ যন্ত্রাংশ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যা উত্তর আমেরিকার সামগ্রীকে ৬২ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৫ শতাংশে উন্নীত করবে। নাফটা জোনে এটি হবে শীর্ষস্থানীয়। কানাডা গত সপ্তাহে মন্ট্রিল আলোচনায় একটি আপস প্রস্তাবের পরিবর্তে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট যেমন হাইটেক কাজ অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানায়। যা উত্তর আমেরিকার কন্টেন্ট গণনা পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই পদ্ধতিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে, এটি তৈরির জন্য যানবাহন তৈরির কর্মীদের জন্য যথেষ্ট নয়। গাড়ির অংশগুলো ব্যবহার করতেও তারা বাধ্য নয়। ফ্রিল্যান্ড বলেন, কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে যানবাহনের ক্ষেত্রে। কানাডার প্রস্তাবগুলো উত্তর আমেরিকায় আরও দক্ষ কর্মীদের উৎসাহিত করবে। যার মধ্যে স্বচালিত গাড়ি উৎপাদন বা সম্প্রসারণের জন্য যানবাহন কোম্পানিগুলোর জন্য মুনাফা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।