ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে তিনদিনের চীন সফরকালে হংকং মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয় উত্থাপন না করায় তার প্রশংসা করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাকে একজন বাস্তববাদী নেতা উল্লেখ করেছে। খবর গার্ডিয়ান অনলাইনের। সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস টেরেসা মের সফরের শেষদিন শুক্রবার এক সম্পাদকীয়তে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বিষয়গুলো বিচক্ষণতার সঙ্গে এড়িয়ে গেছেন। কারণ, তিনি ব্রিটেন ও বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক দেশের মধ্যে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা চান। কমিউনিস্ট পার্টি চালিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসের ইংরেজী ভাষী সংস্কারে বলেছে, মে বেজিংয়ের সমালোচনা করুক এটা অব্যাহতভাবে চাইছে কিছুসংখ্যক পাশ্চাত্য মিডিয়া। তারা চাইছে, যুক্তরাজ্য চীনের চাপের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখবে। জাতীয়তাবাদী সংবাদ পত্রিকাটি গার্ডিয়ানে বুধবার প্রকাশিত জশুয়া ওংয়ের এক নিবন্ধনের উল্লেখ করে বলে, হংকংয়ে কোন কোন মানবাধিকার কর্মীও নাক গলিয়েছেন। জশুয়া ওং সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকংয়ের বিরুদ্ধে বেজিংয়ের দমন-পীড়নকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য মে’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারপরও, গ্লোবাল টাইমস ঐ ধরনের আহ্বানের প্রতি সাড়া না দেয়ার জন্য মে’কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মে চীন সফরের লক্ষ্যের পরিপন্থী অবশ্যই কোন মন্তব্য করেননি। তিনি এ সফরের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বিনিময়ে ব্রিটিশ মিডিয়াকে তোষামোদ করলে তা তার জন্য অর্জনের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। গ্লোবাল টাইমসের চীনাভাষী সংস্কারে বলা হয়েছে, পাশ্চাত্যের মিডিয়াগুলোর কাদা ছোড়াছুড়ি নিষ্ফল হয়েছে। চীন-যুক্তরাজ্য সহযোগিতায় কোন কিছুই বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। গোলমেলে ও খুঁতখুঁতে সমালোচনা বাতাসে ভেসে যাবে। মে মঙ্গলবার চীন সফরের জন্য বিমানে ওঠার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি চীনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় হংকং ও মানবাধিকার বিষয় উত্থাপন করবেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে তিনি বুধবার তার প্রতিপক্ষ লি কি কিয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি। লি বলেছেন, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ অধিকার ও যুক্তরাজ্য-চীনের মধ্যে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ব্যাপক সংলাপের অংশ হিসেবে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হুয়া চুনইং মের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে উত্থাপন না করা সম্পর্কে রিপোর্টারদের বলেছেন। চীনের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ব্রিটিশ পক্ষ অবলম্বনের জন্য অবশ্যই শক্তিশালী ও ইতিবাচক ইচ্ছা পোষণ করতে হবে। চায়না ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে ইউরোপিয়ান স্টাডিজ বিভাগের প্রধান কুই হংজিয়ান বলেছেন, মের একটা অলঙ্ঘনীয় বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি পশ্চিমা জনগণের মতামত ও বেজিং; দু’দিককে খুশী করার চেষ্টা করেছেন। সত্যিকারভাবে আমি টেরেসা মের জন্য সহানুভূতি অনুভব করছি।