দুর্নীতিদমনের নামে কোটিপতি ব্যবসায়ী সৌদি প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালকে গত বছর নবেম্বরের শুরুতে রিয়াদের রিজ কার্লটন হোটেলে আটকে রাখা হলে বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। পশ্চিমের দেশগুলোতে বেশ পরিচিত এ ব্যবসায়ীকে কেন আটক করা হয়েছে এবং কি অবস্থায় রাখা হয়েছে সেটা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়। খবর ওয়েবসাইটের।
সৌদি আরবের নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যে রাজকীয় ডিক্রী জারি করে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তারা প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে যা কাজে দেবে। ওই সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে পাঁচ তারকা রিজ কার্লটন হোটেলকে রাজকীয় বন্দীশালায় পরিণত করে সেখানেই দেশটির বেশ কয়েক প্রিন্স, সাবেক মন্ত্রী, সরকারী কর্মকর্তা ও ধনী ব্যবসায়ীসহ প্রায় চার শ’ ধনাঢ্যকে আটকে রাখার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এ বছর জানুয়ারির শেষদিকে কানাডার এক ব্যবসায়ী এক সাক্ষাতকারে আলওয়ালিদকে পাঁচ তারকা হোটেলে নয় বরং বন্দীশালায় আটকে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি অনলাইনে একটি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে প্রিন্স আলওয়ালিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই ব্যবসায়ী বলেন, ওই কথোপকথনের সময় আমার মনে হয়েছে, সৌদি প্রিন্স পাঁচ তারকা হোটেলে নয় বরং বন্দীশালায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা হোটেলকে বন্দীশালায় রূপান্তরিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে রিজে গিয়ে স্বচক্ষে প্রিন্স আলওয়ালিদের অবস্থা দেখার আমন্ত্রণ জানান। তার কয়েক ঘণ্টা পরই রয়টার্সের সাংবাদিক কেটি পলের সঙ্গে আলওয়ালিদের সাক্ষাতকারের বিষয়টি ঠিক হয়। গত ২৭ জানুয়ারি রাত ১টায় সরকারী গাড়ি পলকে তুলে নিয়ে রিজের বিশাল ফটকের সামনে হাজির করে। আমি তিনমাসের মধ্যে প্রথমবার রিজের প্রধান ফটকটি খোলা দেখতে পেলাম, বলেন পল। কিছু সময় অপেক্ষা ও পায়চারি করার পর তাকে ছয় তলায় প্রিন্সের বিলাসবহুল কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, আলওয়ালিদ যেখানে অপেক্ষা করছিলেন। প্রিন্সের কক্ষের বাইরে হোটেলের কোন ছবি বা ভিডিও নিতে নিষেধাজ্ঞার কথা জানালেও সাক্ষাতকারের সময় এ ধরনের কোন শর্ত দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পলকে স্বাগত জানানোর সময় প্রিন্সকে প্রাণোচ্ছল দেখাচ্ছিল, তিনি সাক্ষাতকারের সময় ছবি তোলা এবং ভিডিও করার অনুমতিও দেন। সরকারী কর্মকর্তারা এরপর প্রিন্সের সঙ্গে সাংবাদিককে রেখে কক্ষ ছেড়ে চলে যান। দুজন প্রায় ২৫ মিনিট একান্তে আলোচনা করেন। সাক্ষাতকারে প্রিন্স জানান, রিজে অবস্থানকালে তার সঙ্গে ভাল ব্যবহারই করা হচ্ছে। ষাটোর্ধ এ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার, ঘুষ ও কর্মকর্তাদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ আনা হতে পারে বলে এক সৌদি কর্মকর্তা এর আগে জানিয়েছিলেন। সাক্ষাতকারে আলওয়ালিদ কোন ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নির্দোষ এবং সহজেই এখান থেকে বের হয়ে যাবেন। সম্পদ ও কোম্পানি কিংডম হোল্ডিংয়ের ওপরও তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ কোটিপতি ব্যবসায়ী। আলওয়ালিদ খোলা মনেই এসব বলছিলেন, নাকি বিচারবহির্ভূত আটকাদেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি এসব বলেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়ার কোন উপায় ছিল না, বলেন পল। তাকে শীর্ণ দেখাচ্ছিল, যদিও তিনি আত্মবিশ্বাসী ও সতেজ ছিলেন। বিলাসবহুল কামরাগুলো ঘুরে দেখানোর সময় তিনি এমনকি আমার সঙ্গে কৌতুক করছিলেন, দুজনের একসঙ্গে ছবি তুলতেও জোর করেছিলেন তিনি। পল জানান, তার আইফোনেই তিনি দ্জুনের কথোপকথন রেকর্ড করেন। আলওয়ালিদের ডেস্কে ওই সময় স্বর্ণের টিস্যু বক্স ও পানির বোতল ছিল। সাক্ষাতকারের কয়েক ঘণ্টা পরই প্রিন্স মুক্তি পান, যদিও তার মুক্তির শর্তাদি স্পষ্ট নয় বলে তখনকার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।