টার্গেট এফবিআই ও বিচার বিভাগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে এফবিআই এবং বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধা রাখলেও এখন তিনি মনোভাব বদলেছেন। প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভার নিয়ে তদন্ত চালানোর জন্য তিনি বিভাগ দুটোর ‘সাহসের’ প্রশংসা করেন। নিউইয়র্ক টাইমস। নির্বাচনের ১৬ মাস পর এসে এফবিআই এবং বিচার বিভাগের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। তিনি শুক্রবার বলেন, এজেন্সিগুলোর উচিত নিজেদের ‘অসম্মানজনক’ কাজের জন্য লজ্জিত হওয়া। ট্রাম্পের এই সমালোচনার আগেই এফবিআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর এ্যান্ড্রু ম্যাককাবেকে কিছুদিন যাবত চাপে রাখেন ট্রাম্প। তিনি ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল রোড রোজেস্টেইনকে বরখাস্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এফবিআইয়ের ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার ওয়ারি পদত্যাগ করতে পারেন বলেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। প্রেসিডেন্ট এবং দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব আমেরিকার আধুনিককালের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ট্রাম্পের প্রচার টিম ২০১৬ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাসাজশ করেছিল কিনা কিংবা ট্রাম্প গত বছর বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ করেছিলেন  না – একজন বিশেষ কৌঁসুলি এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন। তবে তার এ কাজেও ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করছেন। তিনি যা করে যাচ্ছেন অতীতে কোন প্রেসিডেন্টই তা করেননি। কংগ্রেসের নিকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ইন্টেলিজেন্স কমিটির রিপাবলিকান সদস্যদের তৈরি করা একটি মেমোর খসড়ার দিকে এখন ট্রাম্পের মনোযোগ। খসড়াটি শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রবাজ মানসিকতা অনেক পুরনো। প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এ ধরনের মানসিকতা লালন করে এসেছেন। দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম থেকে তিনি গোয়েন্দা বিভাগকে টার্গেট করে আক্রমণ হানা শুরু করেন। কারণ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের আক্রমণের আওতা বিস্তৃত হয়েছে। তার নিয়ন্ত্রণাধীন আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিকেও তিনি ছাড়ছেন না। যেমন ডিসেম্বরে তিনি মন্তব্য করেছেন এফবিআইয়ের মর্যাদা এখন ‘ধুলিস্যাত’ এবং ইতিহাসের ‘সবচেয়ে খারাপ অবস্থা’য় এজেন্সিটি রয়েছে। তার কথা অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগে এখন যড়যন্ত্রবাজরা ঢুকে পড়েছে যারা তার বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতা বিতর্কিত করছেন বলে অনেকে মনে করেন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক জ্যাক গোল্ডস্মিথ বলেন, আমি মনে করি না আর কোন সময় এ রকম ঘটনা ঘটেছে। এ রকমটি হচ্ছে কারণ প্রেসিডেন্ট এখন তদন্তাধীন। ট্রাম্প যা করছেন তা সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনার ওপরও প্রভাব ফেলছে। অ্যাক্সিওস নামে একটি সংবাদ ওয়েবসাইটের জন্য করা একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৩৮ রিপাবলিকান এফবিআই সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শতকরা ৩৮ রিপাবলিকান এফবিআই সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। বিচার বিভাগ ও এফবিআই সম্প্রতি ত্যাগ করেছেন এরকম অনেক কর্মকর্তা সাক্ষাতকারে বলেছেন, তারা মনে করেন ট্রাম্প চান বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলারের তদন্ত আটকে দিতে। মুয়েলার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছেন। এই উদ্দেশে ট্রাম্প নিজের সাময়িক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য শতকরা ৩৮ রিপাবলিকান এফবিআই সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। ট্রাম্প এখন এফবিআই ও বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতার বিনাশ ঘটাতে চান বলে সম্প্রতি সংস্থা দুটো ছেড়ে আসা অনেক কর্মকর্তা তাদের সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ট্রাম্প কংগ্রেস, আদালত, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, গোয়েন্দা সংস্থা, পেশাদার ক্রীড়া সংস্থা এমনকি নিজের দলকে টার্গেট করেও আক্রমণ করেছেন। তবে এফবিআই ও বিচার বিভাগকে আক্রমণের নিশানা বানানো তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

 

 

 

2018-02-05T07:02:57+00:00February 5th, 2018|আন্তর্জাতিক|
Advertisment ad adsense adlogger